নরিন জাহান, জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ :
নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক জেলা নারায়ণগঞ্জ। শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীকে ঘিরেই এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, নৌপরিবহন ও মানুষের জীবনযাত্রা গড়ে উঠেছে। একসময় নদীপথ ছিল নারায়ণগঞ্জের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ভবিষ্যতেও পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে এই নদীগুলো হয়ে উঠতে পারে অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
নদী খাতের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল বন্ধ, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর। বিশেষ করে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি, কার্যকর বর্জ্য শোধনাগার (ETP) এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের নদী ও খালকেন্দ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের খবর পাওয়া গেছে। ফতুল্লায় জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন ও পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের গঞ্জে আলী খাল খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা কমানো, পানি নিষ্কাশন উন্নত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নদীর দুই তীরে সবুজ বনায়ন, দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে, নিরাপদ নৌঘাট, আধুনিক নৌপরিবহন ব্যবস্থা এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন নদীর সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা নদীকে কেন্দ্র করে নিরাপদ নৌপথ ও আধুনিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা রক্ষা এবং সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA), পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও পরিবেশগত সমীক্ষার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে নারায়ণগঞ্জের নদীগুলোকে আবারও অর্থনীতি, পরিবেশ ও যোগাযোগের শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করা সম্ভব।
নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন শুধু সড়ক ও শিল্পকারখানার ওপর নির্ভরশীল নয়; নদীর সুস্থতা, নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে, সচল হবে অর্থনীতি, সমৃদ্ধ হবে নারায়ণগঞ্জ।
এ জাতীয় আরো খবর..