হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
বর্ষা শেষে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। খোয়াই নদীর বুকে জেগে উঠেছে ছোট-বড় চর, উন্মুক্ত হয়েছে পাথরের স্তূপ। কোথাও অগভীর পানিতে, কোথাও আবার পাথরের ফাঁকে আটকে রয়েছে দেশি মাছ। আর সেই মাছ ধরতে খোয়াই নদীজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসব। প্রতিদিন শত শত মানুষ জাল ও খালি হাতে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে নদীর দুই পাড়।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ, পুরান বাজার ব্রিজ, রেললাইন ব্রিজ, আলাপুর, কলিমনগর ও লেঞ্জাপাড়া এলাকায় মাছ ধরতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। কারও হাতে ঠেলা জাল, কারও হাতে ঝাঁকি জাল। আবার কেউ পাথরের ফাঁকে হাত ঢুকিয়ে খুঁজছেন মাছ। দলবেঁধে মাছ ধরার এমন দৃশ্য নদীপাড়ে সৃষ্টি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় নদীর অগভীর অংশ ও পাথরের ফাঁকে আটকে পড়া দেশি মাছ সহজেই ধরা পড়ছে। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে পুঁটি, টেংরা, বাইম, লাছো, কেরি, ছেলাপাতি, মিগেল ও গুচি বাইমসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
সরেজমিনে নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, কেউ জাল টেনে মাছ তুলছেন, কেউ পানিতে ডুব দিয়ে মাছ খুঁজছেন। আবার কেউ খালি হাতে পাথরের ফাঁক থেকে মাছ ধরছেন। ছোট-বড় মাছ ধরা পড়লেই আনন্দে মেতে উঠছেন তারা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বয়স্করাও অংশ নিচ্ছেন মাছ ধরার এই আয়োজনে। কেউ শখের বশে মাছ ধরছেন, আবার কেউ মাছ বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।
আলাপুরের বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, “প্রতিবছর এই সময়ে নদীর পানি কমলে আমরা মাছ ধরতে আসি। কেউ আনন্দের জন্য মাছ ধরেন, আবার কেউ মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নদীতে মাছ ধরার মধ্যে আলাদা আনন্দ রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, খোয়াই নদীতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরার এই আয়োজন এখন গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে মানুষের মিলনমেলা। নদীর পাড়ে মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ছুটে আসছেন মানুষ। পানি আরও কমলে মাছ ধরা ও মানুষের সমাগম বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
তবে নদীতে দেশি মাছের এমন প্রাচুর্য ধরে রাখতে প্রাকৃতিক প্রজনন ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল আলম।
তিনি বলেন, “নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাছ সংরক্ষণে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।”
এ জাতীয় আরো খবর..