×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে প্রবাসীদের গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: চালকসহ গ্রেফতার ৩, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বদলি
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০৪
  • ৩৭ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সম্ভাব্য সাফল্যের পাশাপাশি সিনেট নির্বাচনেও এক ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের একাধিপত্য ভেঙে মার্কিন সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে দলটি।

দ্য গার্ডিয়ানের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনের বেসরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়টাতে তাঁর যেকোনো নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে এই ফলাফল একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি বাধা হিসেবে কাজ করবে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর উল্লাস প্রকাশ করে সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার বলেন, ‘সমস্ত প্রতিকূলতা ও শঙ্কাকে পেছনে ফেলে আমরা ডেমোক্র্যাটরা সিনেট জয় করেছি। আমেরিকার সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আমাদের বার্তা একদম স্পষ্ট—অবশেষে স্বস্তি ও মুক্তি আসছে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে ১০০টি সিনেট আসন রয়েছে, যার প্রতিটি রাজ্য থেকে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে যেকোনো দলের প্রার্থীদের অন্তত ৫১টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হয়। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের মোট ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই ৩৫টি আসনের মধ্যে ১৫টিতেই জয় নিশ্চিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এর ফলে সামগ্রিক সিনেটে ডেমোক্র্যাট পার্টির মোট আসনসংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৫২টিতে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেট এখন ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্পূর্ণ দখলে। তা ছাড়া ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয়রথ আরও সামনে এগোতে পারে বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে, কারণ ১৫টি আসনে জয়ের পাশাপাশি আরও ৩টি আসনে তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা বহু বছর বা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে রাজ্যগুলোতে জয়ের মুখ দেখেনি, এবার সেখানেও এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। সাউথ ক্যারোলিনা, নর্থ ক্যারোলিনা, ওহাইও, টেক্সাস, আইওয়া এবং কানসাসের মতো ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান দুর্গে শক্তিশালী প্রার্থী নামিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করেছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।

সিনেটের এই প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের ফলে ডেমোক্র্যাটরা কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই বড় বাধা সৃষ্টি করবে না, বরং তাঁর মন্ত্রিপরিষদ কিংবা উচ্চ আদালতসহ কেন্দ্রীয় বিচার বিভাগের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ আটকে দেওয়ার পূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা অর্জন করেছে।

এদিকে মিনেসোটা ও মিশিগানে এখনও ভোট গণনা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটররা নিজেদের আসনগুলো ধরে রাখার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের নীল দুর্গ হিসেবে পরিচিত একমাত্র রিপাবলিকান প্রতিনিধিত্বকারী অঙ্গরাজ্য মেইনে সুসান কলিন্সকে পরাজিত করার লড়াই চলছে। পাশাপাশি আলাস্কায় দুই মেয়াদের রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানকে হারানোর জোরালো প্রত্যাশা থাকলেও সেখানকার চূড়ান্ত ফল আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পাশাপাশি সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩ আসনের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সিনেটের দখল পুনরায় ফিরে পাওয়াকে একপ্রকার অসম্ভব বলেই মনে করেছিলেন অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক। কারণ এবারের নির্বাচনে নির্ধারিত অঙ্গরাজ্যগুলোর সিংহভাগই ছিল দুই দলের নিজ নিজ শক্ত ঘাঁটি। তাছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন ভোটারদের দুই দলের বাইরে আলাদা বা পরিবর্তনশীল দলকে ভোট দেওয়ার প্রবণতাও অনেকটাই কমে এসেছিল। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা আশা করেছিল যে তারা ডেমোক্র্যাটদের অপেক্ষাকৃত দুর্বল ঘাঁটি জর্জিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও মিশিগানে আক্রমণ চালিয়ে নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নেবে, যদিও জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে তাদের সেই কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক হাওয়া ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ঝুঁকতে শুরু করে। বিশেষ করে অর্থনীতি এবং কঠোর অভিবাসন সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ নীতিগুলোতে আশানুরূপ সফলতা না আসায় ট্রাম্পের জনসমর্থন দ্রুত কমতে থাকে। এর ওপর ইরানে সামরিক হামলা চালানো এবং মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন বাহিনীর প্রকাশ্য অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে পৌঁছায়। এর মাঝেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লে টেক্সাস, কানসাস ও আইওয়ার মতো গোঁড়া রিপাবলিকান দুর্গেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ডেমোক্র্যাটরা।

পরিসংখ্যান বলছে, কানসাসে ১৯৩২ সালের পর এবং টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়লেন। এ ছাড়াও দক্ষিণ ক্যারোলিনায় ৩৮ বছর এবং আইওয়া ও উত্তর ক্যারোলিনায় দীর্ঘ ১৮ বছর দীর্ঘ ব্যবধানের পর জয় পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।

রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক বা প্রাইমারি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অযাচিত ও প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপও তাদের এই ঐতিহাসিক পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা। উত্তর ক্যারোলিনার প্রবীণ রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস ট্রাম্পের প্রধান অভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় তাকে তীব্র আক্রমণ করেন ট্রাম্প। এর ফলে চাপের মুখে পড়ে টিলিস রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সাবেক গভর্নর রয় কুপার অত্যন্ত সহজে সেই আসনটি নিজের দখলে নিয়ে নেন।

একইভাবে টেক্সাসে দীর্ঘদিনের সফল রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিনের বিপক্ষে বিতর্কিত অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন দেন ট্রাম্প। ফলে প্রাইমারি নির্বাচনেই হেরে বিদায় নেন কর্নিন, আর রিপাবলিকানদের অন্যতম শক্ত এই ঘাঁটিতে ঐতিহাসিক জয়ের সুযোগ তৈরি হয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য।

অন্যদিকে, দক্ষিণ ক্যারোলিনার জনপ্রিয় প্রবীণ রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক প্রয়াণের পর, নির্বাচনে রাজনীতি বা জনসেবার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁর বোন ডারলিন গ্রাহামকে তড়িঘড়ি করে সমর্থন দেন ট্রাম্প। অভিজ্ঞ প্রতিদ্বন্দ্বী ও নেতাদের বাদ দিয়ে পারিবারিক পরিচয়ে দেওয়া এই বিতর্কিত সমর্থন সাধারণ ভোটার ও দলীয় সমর্থকরা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। যার ফলে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ প্রায় ৪ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে তাঁকে পরাজিত করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি ছিনিয়ে নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat