×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে প্রবাসীদের গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: চালকসহ গ্রেফতার ৩, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বদলি
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০৪
  • ৩০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সহজ করতে হবে।’ এ সময় সরকার গৃহীত ‘জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১’ এবং ‘পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল প্রয়োগ, কাগজবিহীন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।

অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক নীতি ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং অভিবাসন তল্লাশিচৌকিগুলোর সার্বিক কার্যক্রমের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে হবে।’

এর পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল না রেখে মানবাধিকার সুরক্ষা, সংবেদনশীলতা ও উচ্চ পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।

বহুজাতিক অপরাধ, মানব পাচার এবং অবৈধ অভিবাসন কার্যকরভাবে রোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক বা নির্দিষ্ট সংস্থার একক দায়িত্ব হতে পারে না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ও যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত কাঠামো গঠনে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

একই সাথে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সাহায্য বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এই বিনিয়োগ শুধু বাংলাদেশের সীমান্তকে সুরক্ষিত করবে না, বরং সমগ্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বব্যাপী নিরাপদ বৈশ্বিক যোগাযোগেও বড় অবদান রাখবে।’

ব্রিফিং অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, ‘অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখিয়েছে। ভ্রমণের ধরন ও বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে আইওএম সহায়তা অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক।’

উক্ত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং ও ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনা পর্বে বৈধ যাতায়াত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানব পাচার, সীমান্ত অতিক্রমকারী আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় করা হয়।

উল্লেখিত কৌশলগত রূপরেখায় সহযোগিতার সম্ভাব্য চারটি মূল ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো— সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অবকাঠামো ও সেবার সার্বিক উন্নয়ন। এই কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat