নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আজ সোমবারও তৈরি পোশাকশ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের কারণে চরমভাবে উত্তপ্ত রয়েছে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মহাসড়ক। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ইতোমধ্যে জেলার দেড় শতাধিক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।
বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সড়ক থেকে ছত্রভঙ্গ করার প্রচেষ্টার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ ও বিজিবির সাথে তাঁদের একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকেরা পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করেন। সংঘর্ষের এই ঘটনায় সংবাদকর্মীসহ বেশ কয়েকজন বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন।
আজ সকাল থেকেই গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা। পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে জমায়েত হওয়া শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে ধাওয়া দেয় পুলিশ ও বিজিবি যৌথ দল।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হন। অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় পুলিশের একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
উক্ত হাঙ্গামার সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে 'সময় টিভি'র রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া সংঘর্ষের মাঝে পড়ে এসএ টিভির ক্যামেরাপারসন পায়ে গুরুতর আঘাত পান।
পরিস্থিতির ভয়াবহতার বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, আজও শ্রমিকেরা রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিক অসন্তোষের এই ঢেউয়ের মুখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা ও মহানগর পুলিশের পাশাপাশি শিল্প পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা যৌথভাবে কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।