ফাহাদ হাসান জিসান, নারায়ণগঞ্জ বন্দর প্রতিনিধি :
দেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জলবায়ু সহনশীল নগর সেবা গড়ে তুলতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ৬৯৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘নারায়ণগঞ্জ গ্রিন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এনজিআরইউডিপি)’ নামে একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (এনসিসি)। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
২৪ ঘণ্টা মিলবে নিরাপদ পানি
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য নারায়ণগঞ্জজুড়ে ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে পর্যাপ্ত চাপ নিশ্চিত করে বছরজুড়ে ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ পানি সরবরাহ করা। এ জন্য নতুন ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন, বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গোদনাইল পানি শোধনাগার এবং প্রোডাকশন টিউবওয়েলের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এই অঞ্চলে ‘নন-রেভিনিউ ওয়াটার’ (অপচয় বা হিসাবহীন পানি)-এর পরিমাণ প্রায় ৬৫ শতাংশ। প্রকল্পের মাধ্যমে তা কমিয়ে মাত্র ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, যা পানি অপচয় রোধ করার পাশাপাশি কার্যক্রমে গতি আনবে। এছাড়া ডিএমজেড-৩ এর আওতায় ডিএমএ ৫, ৬ ও ৭ অঞ্চলে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ এবং নদী পারাপার পাইপলাইন ও ইনডিউসড ব্যাংক ফিল্ট্রেশন (আইবিএফ) প্রযুক্তির মাধ্যমে পানির উৎস সম্প্রসারণ করা হবে।
একনেক সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। শীতলক্ষ্যা নদীর পরিশোধিত পানি এবং মেঘনা নদীর পানি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পানির পাইপলাইন উন্নত করা হবে। নামের চেয়ে বাস্তবায়নের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
মুক্ত হবে জলাবদ্ধতা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা
অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ও জলাধার দখলের ফলে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সমস্যা কাটাতে প্রকল্পটিতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণ, পুরোনো ড্রেন পুনর্বাসন এবং উপযুক্ত সংযোগের মাধ্যমে খাল পুনঃরুদ্ধার করা হবে। ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উচ্চচাপের জেটার, ডাম্প ট্রাক ও পাওয়ার রডারের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হবে।
বিনোদন স্পেস, পার্ক ও ‘ওয়াটার এটিএম’
নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে ও তরুণদের সুস্থ বিকাশে তৈরি করা হবে নতুন পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত বিনোদন স্থান এবং কমিউনিটি সেন্টার। জনবহুল এলাকায় নিরাপদ পানি সহজলভ্য করতে বিশেষ শেডের মাধ্যমে বসানো হবে ‘ওয়াটার এটিএম’।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ পরিকল্পিত নগরায়ণ, পয়ঃনিষ্কাশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক আইটি সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে।
প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ একটি পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু-সহনশীল ও আধুনিক বাসযোগ্য শহরে রূপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ জাতীয় আরো খবর..