টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার আধুনিক অবকাঠামো ও নতুন ভবন থাকলেও দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এই সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে বারান্দার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শযয়ায় উন্নীত করে নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছিল। অথচ আজও তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।
জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের শোচনীয় চিত্র:
শূন্য পদের দীর্ঘ তালিকা: হাসপাতালে ১২৯টি পদের মধ্যে ৩৭টি পদই শূন্য রয়েছে। ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে কর্মরত মাত্র দুজন (মেডিসিন ও গাইনি), যার মধ্যে মেডিসিন কনসালট্যান্ট টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে কর্মরত। এ ছাড়া সহকারী নার্স, আয়া, ক্যাশায়ার, বাবুর্চি, এমএলএসএস, স্টোর কিপার এবং ওয়ার্ড বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব পদই শূন্য।
বিগত ৪২ বছরের পুরনো এক্স-রে মেশিন: ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হাসপাতালে নতুন কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম যুক্ত হয়নি। ফলে ১৯৮৪ সালের সেই পুরনো এক্স-রে মেশিন দিয়েই বর্তমানে কার্যক্রম চলছে, যার রিপোর্ট প্রায়ই অস্পষ্ট হওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হয়। পাশাপাশি আলট্রাসনোগ্রাম ও অ্যানালাইজার মেশিনও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
চালকবিহীন অ্যাম্বুলেন্স ও সেবা সংকট: হাসপাতালে একটিমাত্র অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কোনো চালক নেই। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের চড়া ভাড়ায় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জেলা শহর বা ঢাকায় যেতে হয়। এ ছাড়া অ্যানেস্থেটিস্টের অভাবে নিয়মিত অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।
রোগীদের চরম ক্ষোভ ও অভিযোগ:
বহিঃবিভাগে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬শ’ রোগী ও ভর্তি হওয়া ৬০-৭০ জন রোগী সেবা নিতে এলেও চিকিৎসক ও নার্সদের চরম হিমশিম খেতে হয়। ভর্তিকৃত রোগীরা সময়মতো খাবার না পাওয়া, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং প্যাথলজি ও রেডিওলজি বিভাগ নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় ও ভোগান্তির শিকার রোগীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জোরালো দাবি জানিয়েছেন।