রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এই আদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি:
শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত আসামিদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, তারা প্রশাসনের পূর্বানুমতি নিয়েই জাসদ কার্যালয়ে বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। এ সময় তিনি আদালতে পুলিশের অনুমতিপত্রও প্রদর্শন করেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, আসামিরা অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপনে বৈঠক করছিলেন এবং তারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। এই মুহূর্তে তাদের জামিন দেওয়া হলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুরের এই আদেশ দেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও গ্রেপ্তার ২৭ জনের পরিচয়:
এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় গুলিস্তানে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় ২৭৮ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের মধ্যে ২৭ জনকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ২৭ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—মো. দিনারুল আলম, ইমান আহম্মেদ, মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মো. মিরাজ আহমেদ, মো. মিরাজ মল্লিক, মো. রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার, মো. কাউসার হোসেন, শ্রী অন্তর শিল, জালাল উদ্দিন মণ্ডল, আবদুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহম্মেদ আহসান হাবিব, মো. সুজন আলী, মো. তরিকুল ইসলাম, মো. সাইফুল্লার সাদেক, নয়ন আলী, সাজিদুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. আল আমিন হাওলাদার, মো. তুষার আলী, মো. রাসিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান।
জাসদের প্রতিক্রিয়া:
ঘটনার বিষয়ে জাসদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ডিএমপির অনুমতি নিয়েই তাদের পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় চারশ’ নেতা-কর্মী অংশ নেন। তবে সভার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায় এবং পরবর্তীতে পুলিশ এসে কার্যালয় ঘেরাও করে নেতা-কর্মীদের আটক করে।