দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরের পরিবর্তে আগামী বছরের (২০২৭ সালের) জানুয়ারি মাসে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। রবিবারে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, এর আগে আগামী ১২ নভেম্বর প্রাথমিক নির্বাচনের যে শিডিউল বা তফসিল ঘোষণার কথা ছিল, সেখান থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
পরীক্ষার এই সময়ে ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত করা অত্যন্ত দুরূহ। এই বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই ইসি বর্তমান সময়টিতে ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছে। এর পাশাপাশি, আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন প্রধান স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যে সংলাপ বা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তাও আপাতত বাতিল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
যদিও আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে ভোটগ্রহণের একটি সম্ভাব্য সময়সীমার কথা ভাবা হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কোনো তফসিল বা দিনতারিখ চূড়ান্ত করেনি নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরবর্তীতে নতুন কোনো উপায়ে আলোচনা বা সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করে এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরই আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে।