×
সদ্য প্রাপ্ত:
নোয়াখালীতে আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার লঘুচাপের প্রভাবে দেশের ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা “মেঘের গর্জন আর বৃষ্টির তাণ্ডবে কুপোকাত রাজধানী” ইউরোপে রুশ ‘হাইব্রিড হামলার’ হুমকি বেড়েছে: ম্যাক্রোঁ বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য: ড. তিতুমীর রাজধানীতে নাশকতা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার,২০০'র বেশি চেকপোস্ট: ডিএমপি সৌদির রাজধানী রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কতা জারির পর শোনা গেল বিস্ফোরণের শব্দ ৪৯৫ উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জনের প্রাণহানি ফের বন্ধ চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-২০
  • ৪৯ বার পঠিত
মুজাহিদ হোসেন,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল চত্বর থেকে সরকারি নিলাম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়াই মেহগনিসহ বেশ কয়েকটি মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। কাটা গাছগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের আউটসোর্সিং ওয়ার্ডবয় বাপ্পি হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার হাসপাতাল চত্বর থেকে বেশ কয়েকটি পুরোনো ও মূল্যবান গাছ কাটা হয়। এর মধ্যে একটি আকাশমণি গাছের চিকন ডালপালা হাসপাতাল চত্বরে সংরক্ষিত অবস্থায় থাকলেও গাছটির মোটা গুল সেখানে পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ওই গাছের মোটা গুল স্থানীয় একটি করাতকলে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

কাটা গাছের মোটা অংশ হাসপাতাল চত্বরের বাইরে কীভাবে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গাছের মোটা গুল করাতকলে যাওয়ার বিষয়ে কোনো নথি, অনুমোদন বা হিসাব রয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। গাছটি বিক্রি করা হয়েছে কি না—এ বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও গাছগুলো কাটার আগে কোনো প্রকাশ্য নিলাম বা যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তাদের প্রশ্ন, নিলাম ছাড়াই সরকারি গাছ কাটার অনুমতি কে দিল?

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএসও) ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, “গাছগুলো কোনো নিয়মমাফিক ডাক (নিলাম) ছাড়াই কাটা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বন বিভাগকে চিঠি পাঠিয়েছি।”

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্যের সঙ্গে বন বিভাগের তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। বদলগাছী উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম জানান, গত তিন মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গাছ কাটা বা বিক্রির বিষয়ে কোনো চিঠি বা আবেদন তারা পাননি। নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের অনুমোদন ও অ্যাসেসমেন্ট ছাড়া সরকারি গাছ কাটার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিঠি পাঠানোর দাবি এবং বন বিভাগের চিঠি না পাওয়ার বক্তব্যে গাছ কাটার অনুমোদন ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের আউটসোর্সিং ওয়ার্ডবয় বাপ্পি হোসেন বলেন, আমি চাকরির পাশাপাশি হাসপাতালের দুটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি। পুকুরের পানিতে গাছগুলো পড়ে যাওয়ায় টিএসও স্যারের সঙ্গে কথা বলে নিজ খরচে গাছ কেটে পাড়ে তুলে রাখছি। এছাড়াও ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ কেটে জমা করছি। কেটে জমা রাখা গাছ হারিয়ে গেলে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

তবে বাপ্পির এ বক্তব্যের পরও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—গাছ কাটার লিখিত অনুমোদন আছে কি না, বন বিভাগের অ্যাসেসমেন্ট হয়েছে কি না এবং কাটা গাছের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কোথায় সংরক্ষিত রয়েছে।
বিশেষ করে হাসপাতাল চত্বরে একটি আকাশমণি গাছের চিকন ডাল সংরক্ষিত থাকলেও মোটা গুল করাতকলে পাওয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটল—এ প্রশ্নেরও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গাছ বিক্রি করা হয়েছে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তবে সরকারি গাছের মোটা গুল হাসপাতাল চত্বরে না থেকে করাতকলে পাওয়ার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।

তাদের দাবি, হাসপাতাল চত্বরের কাটা গাছের সংখ্যা, প্রজাতি, আকার, আনুমানিক মূল্য, কাটার অনুমোদন, বন বিভাগের অ্যাসেসমেন্ট, নিলাম সংক্রান্ত নথি এবং কাটা কাঠের বর্তমান অবস্থান তদন্ত করে দেখা হোক।

সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এখন প্রশ্ন একটাই—নিলাম ও যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই যদি সরকারি গাছ কাটা হয়ে থাকে, তাহলে এর দায় নেবে কে?

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat