রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং এর আশপাশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে একযোগে প্রায় ১৬০০ ড্রোন নিয়ে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও ধ্বংসাত্মক আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে, যা পুরো বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে নতুন চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
রুশ প্রতিরক্ষা ও জরুরি সেবা বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মস্কো ও এর সংলগ্ন এলাকায় চালানো এই ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে, মস্কো অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ শিল্পভিত্তিক তেল শোধনাগার এই ড্রোনগুলোর সরাসরি আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে এবং সরাসরি রাজধানী মস্কোর মতো অতি সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল এলাকায় এত বিপুল সংখ্যক ড্রোনের এই সফল আঘাত প্রমাণ করে যে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের ড্রোন প্রযুক্তির সক্ষমতা এবং কৌশলগত দূরপাল্লার হামলা চালানোর ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই তীব্র আক্রমণ কেবল রুশ সামরিক কমান্ড ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেই চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেনি, বরং চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে এটি এক নতুন এবং আরও ধ্বংসাত্মক অধ্যায়ের সূচনা করল বলে বিশ্বনেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।