ঢাকার চকবাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ'-এর মিথ্যা ঘোষণায় আনা এক চালানে কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ প্রসাধনী জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। মডেলিং ক্লে ও পিনের আড়ালে ১১৭ শতাংশ শুল্ক-করের ৫ হাজার কেজি (৫ টন) উচ্চমূল্যের প্রসাধনী এনে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের অপচেষ্টা চালায় একটি চক্র।
চালানটির কায়িক পরীক্ষা ও কাস্টমস নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়:
ঘোষিত পণ্য ও ইনভয়েস: ঢাকার চকবাজারের ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ ১৫ হাজার ডলার ইনভয়েস মূল্যে ৯,৭৫০ কেজি মডেলিং ক্লে এবং ৫,৫২৮ কেজি আলপিন ও সেফটি পিন আমদানির ঘোষণা দেয়।
কায়িক পরীক্ষার সত্যতা: কাস্টমস কর্মকর্তারা কন্টেইনারটির কায়িক পরীক্ষা করে দেখেন, ঘোষিত দুই ধরনের পণ্য এসেছে মাত্র ১৩শ কেজি (যার শুল্ক-কর ৬৪ শতাংশ)। বাকি জায়গায় লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায় ঘোষণা বহির্ভূত ৫,০০০ কেজি বিদেশি প্রসাধনী সামগ্রী, যার প্রকৃত শুল্ক-কর ১১৭ শতাংশ (ঘোষিত পণ্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ)।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “সরকারি রাজস্ব ফাঁকির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করি। তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিল করা হয়েছে এবং কিছু আইনি প্রক্রিয়াধীন। মিথ্যা ঘোষণা রোধে আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি।”
চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট 'জেরিন এন্টারপ্রাইজ'। কাস্টমসের নথিতে দেওয়া ঠিকানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কেবল একজন আয়কর আইনজীবী সাবলেটে থাকেন এবং জেরিন এন্টারপ্রাইজ ঠিকানা পরিবর্তন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির নতুন ঠিকানায় গিয়ে সিঅ্যান্ডএফ অংশের অংশীদারদের পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে জেরিন এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান সাগর আমদানিকারকের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, “আমদানিকারকের কারণ দর্শানোর জবাব পজিটিভ হয়েছে। এখন আইন মোতাবেক শুল্ক, জরিমানা বা পেনাল্টি আদায় করে মাল রিলিজ করা হবে।” তবে আমদানিকারকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবল আমদানিকারক নয়—এই ধরনের অনিয়মের পেছনে আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং ভেতরে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করে। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।