২০৩১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সরাসরি দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে।
বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (বিএনএফই) মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত এ তথ্য জানান।
প্রকল্পের পরিধি: পাইলট প্রকল্পের ফলাফল ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে মূল প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশের ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ মানুষকে এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষা: বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদাকে মাথায় রেখে কেবল অক্ষরজ্ঞান শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কারিগরি বিদ্যা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি আত্মকর্মসংস্থান বা কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন।
বর্তমান সাক্ষরতার চিত্র: পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। ২০৩১ সাল নাগাদ এটিকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার মাধ্যমে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের পথে দেশ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
অন্যান্য কর্মসূচি: এছাড়া 'ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান' (Each One Teach One) মডেলের আওতায় 'অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (ALFA)' গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে ভূমিকা রাখবে।
কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় গৃহীত প্রকল্পগুলো অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। এগুলো দ্রুত কার্যকর হলে ২০৩১ সালের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।