সমাজে অপপ্রচার, ঘৃণা ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডকে বিরোধী দল রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক সার্বিক রাজনৈতিক ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে সরকার প্রধান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে চরম কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য প্রদানকারী এক যুবকের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কারণ এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ আচরণ স্পষ্টত আইনের চোখে অপরাধের পর্যায়ভুক্ত। কিন্তু দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে বিরোধী দল ওই অভিযুক্তকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। এতে তারা মূলত অন্যায়, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও অবৈধ পন্থাকাকেই রাজনৈতিকভাবে উৎসাহিত করছে, যা চরম নিন্দনীয়।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রীয় শীর্ষ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে, তা দেশের সামাজিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক কৃষ্টির সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আপনারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারেন এবং নীতিনির্ধারণী ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারেন। তবে তা না করে একটি বিশেষ মহল ভিন্ন ও নোংরা পথ অবলম্বন করছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যে নতুন ধারা তৈরি হতে শুরু করেছে, তা শুরুতেই বিনষ্ট করার জন্য গভীর চক্রান্ত চালানো হচ্ছে।”
বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “বিরোধী দল দাবি করছে যে গত ছয় মাসে নাকি সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকেছিল। বিগত কয়েক মাসের কার্যকর অর্থনৈতিক পদক্ষেপে সেই রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্পষ্ট প্রমাণ।”