নিজস্ব প্রতিবেদক:
শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলের তীব্র আপত্তি ও ধারাবাহিক আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক বিশ্বখ্যাত বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের (DP World) সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড আগামী ১৫ বছর 'ল্যান্ডলর্ড মডেলে' (Landlord Model) এনসিটি টার্মিনালটি পরিচালনা করবে।
বিনিয়োগ ও অগ্রিম পেমেন্ট: টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, নতুন ও আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, ক্রেন হাবি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রায় ১৫ কোটি ডলার বা ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
রাজস্ব ভাগাভাগি: কন্টেইনার প্রতি মাশুল বা রয়্যালটির ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড, যা টার্মিনালের গড় আয়ের ওপর নির্ধারিত হবে। এছাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষে টার্মিনালটি অর্জিত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানসহ বন্দরের কাছে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য থাকবে অপারেটর।
পারফরম্যান্স লক্ষ্যমাত্রা: চুক্তির শর্তানুযায়ী, টার্মিনালে ট্রাকের অপেক্ষমাণ সময় (Turnaround time) কমিয়ে আনা এবং ক্রেনের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কাগজবিহীন স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম চালুর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দরগুলোর তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে অতিরিক্ত সময় ও জটিলতা লাগার কারণে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আসছিল। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই সম্পন্ন হয় এই এনসিটির মাধ্যমে। বন্দরের কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং লজিস্টিকস খাতের ব্যয় কমাতে এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও এই ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি জোরালো করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের সময়ে এসে চূড়ান্ত রূপ পেল।
এর আগে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল সৌদি আরবের আরএসজিটি এবং লালদিয়া টার্মিনাল ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পর, এবার এনসিটি যুক্ত হলো বিদেশি অপারেটরদের তালিকার নতুন সংযোজন হিসেবে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এই পুরো প্রক্রিয়ায় লেনদেন বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে।
এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।
এই প্রতিবেদনটিতে কি আরও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা পরিসংখ্যান যুক্ত করার প্রয়োজন আছে?