আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশটিতে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ‘অরাজক পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের বিভিন্ন স্থানে কংগ্রেসের পাশাপাশি ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযোগ করে বিজেপি। দলটির দাবি, যেভাবেই হোক ক্ষমতায় আসার জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এখন সম্পূর্ণ ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছেন।
গত বুধবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি এই অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, দিল্লির রাজপথে রাহুল গান্ধী, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং অন্যান্য কংগ্রেস কর্মীরা যেভাবে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন, তাতে দলটির আসল উদ্দেশ্য জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে।
এক ভিডিও বার্তায় প্রদীপ ভাণ্ডারি বলেন, “কংগ্রেসের মূল কৌশল হলো নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ভারতেও অরাজক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বিস্তার ঘটানো।”
এদিকে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আয়োজিত ‘পিপলস ট্রাইব্যুনালে’ অংশ নেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। সেখান থেকে ‘জুতো প্রদর্শন’ নামের একটি অভিনব বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল এই সংগঠনের।
ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে ‘গণহত্যা ও ভোট চুরির’ মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই বিক্ষোভ আন্দোলন অব্যাহত রাখার জোরালো ঘোষণা দেন তিনি।
অন্যদিকে, নিজের প্রথম কোনো রাজপথের আন্দোলনে অংশ নিয়ে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী বলেন, “গতকাল যখন মাঠে নামলাম, দেখলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ভাইরাল হচ্ছে যে ধ্রুব রাঠী সরকার পরিবর্তন করতে আসছে। নরেন্দ্র মোদি হয়তো ভাবছেন আমার সমস্যা কেবল তাঁকে নিয়ে; কিন্তু সত্যি হলো পুরো দেশেরই তাঁকে নিয়ে সমস্যা রয়েছে।”
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ এনে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে গত বুধবার মধ্য দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পুলিশের বাধা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কর্মসূচি পালন করতে গেলে সেখানে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ শীর্ষ কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এই অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দিল্লি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছে ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শুক্রবার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।