জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেছেন, এই ঐতিহাসিক সফর নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার, নীতি এবং দেশের প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ অনুবিভাগ) এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ সময় পর জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত কোনো প্রধানমন্ত্রী বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও আত্মমর্যাদাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। বিভিন্ন বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ৪ দিনের এই ব্যস্ততম সফরে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে সফল অংশগ্রহণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান:
ভাষণ ও উচ্চপর্যায়ের সভা: তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং ৭টি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক: জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, ইউএনএইচসিআর ও মানবাধিকার হাইকমিশনার, মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও, বোয়িং গ্লোবাল এবং ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফল সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।