শাহিদুল ইসলাম, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুর-১ আসনের মানবতার এমপি খ্যাত সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান এর পরিবার নিয়ে এখন পুরো কালিয়াকৈর জুড়ে তোলপাড়। বাবা হয়েছেন গাজীপুর-১ আসনের এমপি, কন্যা হয়েছেন ব্যারিস্টার, ছেলে হয়েছেন কানাডার ইঞ্জিনিয়ার।
এই ত্রিমুখী সাফল্যে এলাকায় এখন একটাই আলোচনা। যা কালিয়াকৈরের ইতিহাসে এক বিরল ট্র্যাজেডি ও গর্বের ঘটনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
মুনমুন নামের এই মেয়েটি আমাদের এলাকার গর্ব, তার বাবা ও আমাদের গর্ব, গাজীপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানের কথা ও তার মেয়ে মুনমুন এর কথা। লতিফপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে তিনি আজ বার এট ল ডিগ্রি শেষ করে এক বছরের মধ্যেই আমাদের মাঝে ফিরে এসে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। আমরা গর্ব করে বলতে পারব, আমাদের গ্রামে এমপি আছে, আমাদের গ্রামে ব্যারিস্টার আছে।
জানা গেছে, এমপি কন্যা মুনমুন লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়ছেন, তার আর মাত্র এক বছর বাকি আছে। ব্যারিস্টারি শেষ করেই তিনি দেশে এসে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। অন্যদিকে তার ছেলে কানাডায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন।
কালিয়াকৈর লতিফপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি কন্যা মুনমুন বক্তব্য রাখার পর নিজ হাতে মেধাবী ছাত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন।
লতিফপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশ-২০২৬ এ জীবনের প্রথম মঞ্চে বাবার সাথে এসে কন্যা মুনমুন তেজী কণ্ঠে বলেন,
আমি লতিফপুরের মেয়ে। এই মাটিতে আমার জন্ম। আমি লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়ছি, আর এক বছর বাকি। অনেকে মনে করে বিদেশে গেলে কেউ দেশে ফেরে না। আমি ফিরবো। আমি আমার বাবার মতো এই কালিয়াকৈরের গরীব মানুষের জন্য ফ্রিতে আইনি সেবা দেব। আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছেন, শিক্ষা নিয়ে অহংকার করতে নেই, মানুষের সেবা করতে হয়। আমি সেই সেবাই করবো।
তার এই ট্রাজেডি ও আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত শত শত মা-বোন চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আবেগে কাঁপতে কাঁপতে এমপি মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, আমার ছেলে কানাডায়, মেয়ে লন্ডনে। আমি তাদের বলেছি, তোমরা মানুষ হও। আমার মেয়ে মুনমুন আজ ব্যারিস্টার হচ্ছে, আমার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে। কিন্তু তারা বিদেশে থাকবে না। তারা দেশে ফিরে মানুষের সেবা করবে। আমি গর্ব করে বলতে চাই, বাবা হয়েছে গাজীপুর-১ আসনের এমপি, কন্যা হয়েছে ব্যারিস্টার, ছেলে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার। এটা আমার একার গর্ব না,এটা পুরো কালিয়াকৈরবাসীর গর্ব। আমার মেয়ে এক বছরের মধ্যেই দেশে ফিরে কালিয়াকৈরে একটি ফ্রি লিগ্যাল এইড সেন্টার করবে, যেখানে গরীব মানুষ বিনা টাকায় ন্যায়বিচার পাবে।
লতিফপুর গ্রামের প্রবীণ হাজী বলেন,আগে শুনতাম এমপির পোলাপান বিদেশে গিয়ে আর ফেরে না। মজিবুর সাহেবের পরিবার আমাদের ভুল ভাঙিয়ে দিলো। তার মেয়ে ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফিরবে, এটা আমাদের জন্য বিশাল গর্ব। আমরা বলতে পারব; আমাদের গ্রামে এমপি আছে, আমাদের গ্রামে ব্যারিস্টার আছে। এটা আমাদের ট্র্যাজেডি আনন্দ।
স্থানীয় অভিভাবক শাহিনা আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার মেয়েও লতিফপুর স্কুলে পড়ে। মুনকে দেখে সে এখন স্বপ্ন দেখে। মুন আমাদের মেয়েদের জন্য আইডল। মুনের মতো মেয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্ম নিক।
যুব সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, একই পরিবারে এমপি, ব্যারিস্টার, ইঞ্জিনিয়ার -এটা কালিয়াকৈরের ইতিহাসে প্রথম। এই পরিবারই পারে কালিয়াকৈরকে বদলে দিতে। আমরা এমন পরিবারের পাশে আজীবন থাকবো।
স্থানীয়রা বলছেন,এই পরিবারের সাফল্য কালিয়াকৈরের জন্য একটি ট্র্যাজেডি ইতিহাস হয়ে থাকবে। লতিফপুরের ধুলোমাখা স্কুল থেকে উঠে এসে আজ লন্ডনের ব্যারিস্টার - এটি শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, এটি পুরো কালিয়াকৈরের গর্বের ট্র্যাজেডি।
এ জাতীয় আরো খবর..