বিশেষ প্রতিবেদন
প্রণয় দাশগুপ্ত শিমুল| চট্টগ্রাম ব্যুরো।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের বোয়ালখালীতে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। দিনে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। আর শনিবার সকাল থেকে ঘোষণা দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার পর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ না আসায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।
পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড বোয়ালখালী থেকে জানানো হয়েছিল, আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই সকাল ৮টার আগে বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল ৫টা বেজে ১০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও এখনো বিদ্যুতের দেখা নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
*চার মাস ধরে চলছে টানা ভোগান্তি*
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি আজকের ঘটনা নয়। গত চার মাস ধরে বোয়ালখালীতে বিদ্যুতের এই করুণ অবস্থা চলছে। দৈনিক ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং এখন নিয়মিত ঘটনা। কখনো ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে ৩ ঘণ্টা থাকছে না। বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে ফ্রিজ, টিভি, মোটরসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে।
বোয়ালখালী পৌরসভা, কধুরখীল, পোপাদিয়া, চরণদ্বীপ, শাকপুরা, সারোয়াতলীসহ সব ইউনিয়নেই একই চিত্র।
একজন মুদি দোকানদার বলেন, "দিনে ৪-৫ বার বিদ্যুৎ যায়। ফ্রিজের সব মাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাস্টমার আসলে অন্ধকারে দোকান করতে হয়।"
একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, "সামনে পরীক্ষা, রাতে পড়তে পারি না। দিনেও বিদ্যুৎ থাকে না। আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে।"
◾কারেন্ট থাকার কথা দূরে থাক বোয়ালখালীতে কারেন্ট তো সহজে আসেই না
◾চট্টগ্রাম-৮ বোয়ালখালীতে বিদ্যুতের ছিনিমিনি খেলায় অতিষ্ঠ জনজীবন, দৈনিক ১২-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং মাঝে মাঝে টানা কয়েকদিন দেখা মিলে না বিদ্যুতের
◾অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বলছে আগে মাঝে মাঝে কারেন্ট যেত আর এখন গত কয়েক মাস ধরে মাঝে মাঝে কারেন্ট আসে
◾মাঝে মাঝে গাছ কাটার নাটকে টানা কয়েকদিনের জন্য বিদ্যুৎ হারিয়ে যায় বোয়ালখালী থেকে
◾গত কয়েক মাসে টানা অনেকবার অন্ধকারে ডুবে ছিল পুরো বোয়ালখালীবাসী
◾তারা এটাও বলছে অভিশপ্ত বোয়ালখালীবাসি শুধুমাত্র ভোটের দরকারে রাজনৈতিক দলের কাছে খুবই প্রিয় জন হয়ে উঠে মাঝে মাঝে
◾বিদ্যুৎ সরবরাহে এরকম অনিয়ম আগে কখনোই বোয়ালখালীবাসী দেখেনি
◾নতুন নতুন তালবাহানায় বিদ্যুৎ থাকে না এখন বোয়ালখালীতে ঘন্টার পর ঘন্টা
◾যোগাযোগের জন্য একদিকে কালুরঘাট সেতু ছিল আমাদের জন্য বড় একটা অভিশাপ এখন দ্বিতীয় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ
*সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের ঝড়*
বিদ্যুতের এই অবস্থা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তীব্র সমালোচনা। ফেসবুকে বোয়ালখালীর বিভিন্ন গ্রুপে প্রতিদিন শত শত পোস্ট আসছে।
একজন লিখেছেন, "বোয়ালখালী কি বাংলাদেশের বাইরে? এখানে কেন ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং? সরকার কি দেখে না?"
আরেকজন লিখেছেন, "পল্লী বিদ্যুতের লোকদের ফোন দিলে ফোন ধরে না। ধরলেও বলে লাইনে কাজ চলছে। চার মাস ধরে কী কাজ চলছে?"
*কর্তৃপক্ষ কী বলছে?*
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বোয়ালখালীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত লোডের কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া পুরনো লাইন সংস্কার ও গাছের ডালপালা কাটার জন্য আজ শাটডাউন নেওয়া হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি গ্রিডে ঘাটতি থাকে তাহলে শুধু বোয়ালখালীতেই কেন ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং? নগরীতে তো এমন হচ্ছে না।
বোয়ালখালীবাসীর এখন একটাই দাবি, অবিলম্বে বিদ্যুতের এই ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..