দেশের চলমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চলছে কি না—সেই প্রশ্ন জোরালোভাবে সামনে চলে এসেছে। ময়মনসিংহের পাশাপাশি রাজবাড়ী ও এর গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি যাত্রীবাহী বাসে দুর্বৃত্তরা আকস্মিক অগ্নিসংযোগ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রাতের আঁধারে বা ভোরবেলার দিকে সংঘটিত এই নাশকতাগুলো সাধারণ মানুষ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাগুলোকে নিছক অন্তর্ঘাত নাকি বড় কোনো রাজনৈতিক নাশকতার ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে দেখছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে গভীর তদন্ত।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ময়মনসিংহের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পাকিং করে রাখা বা স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে হঠাৎ করেই আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় বাসটির ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাসটির বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে এই বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
একই রাতে ময়মনসিংহের ঘটনার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা এবং জেলা সদরের কাছাকাছি স্থানে আরও দুটি যাত্রীবাহী বাসে রহস্যজনকভাবে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় দূরপাল্লার গাড়িগুলোর নিয়মিত স্ট্যান্ড বা পাকিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলোতে এই হামলা চালানো হয়।
পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, চালক বা হেলপাররা যখন বাসের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন কিংবা বাস ফাঁকা ছিল, তখনই এই নাশকতা চালানো হয়েছে। ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হলেও বাসগুলোর বডি এবং সিট সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। হঠাৎ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন হাব ও রুটগুলোতে এভাবে একের পর এক বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
একাধিক স্থানে প্রায় একই সময়ে বাসে অগ্নিসংযোগের এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা বলতে নারাজ গোয়েন্দা ও পুলিশ প্রশাসন। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, আসন্ন রাজনৈতিক মেরুকরণে ভীতি সৃষ্টি করা কিংবা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই অন্তর্ঘাত ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর পুলিশ সুপার এবং র্যাব কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি, দেশের প্রতিটি বাস টার্মিনাল, পাকিং জোন এবং মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।