দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খেলাপি ঋণের (NPL) হার কমানো এবং তদারকি সক্ষমতা আধুনিকায়নে ১,২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার কারিগরি সহায়তা প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (FSSP-II)’ শীর্ষক এই মেগা উদ্যোগটি আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে পেশ করা হতে পারে।
ক্ষুদ্র আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ডিজিটাল সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর আইনি পুনর্গঠন নিশ্চিত করাই এই সংস্কার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
পরিকল্পনা কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রধান ব্যয় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার নমনীয় ঋণ এবং সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হবে:
| নির্দেশক / বিবরণ | তথ্য / উপাত্ত |
| প্রকল্পের নাম | ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (FSSP-II) |
| প্রাক্কলিত মোট ব্যয় | ১,২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা |
| মূল বাস্তবায়নকারী সংস্থা | বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় (ব্যাংকিং বিভাগ) |
| প্রধান লক্ষ্য | ডেপোজিট প্রটেকশন, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যাংক সুপারভিশন আধুনিকায়ন |
খেলাপি ঋণ কমানো এবং সুশাসনের ঘাটতি দূর করতে প্রকল্পের অধীনে বেশ কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে:
সুপারভাইজরি টেকনোলজির আধুনিকায়ন: বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট ও অন-সাইট তদারকি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক রেগুলেটরি প্রযুক্তির (RegTech) সংযোজন।
আমানত সুরক্ষা তহবিল জোরদার: সাধারণ আমানতকারীদের জমানো টাকার ঝুঁকি কমাতে ডেপোজিট প্রটেকশন স্কিমের কাঠামোগত আধুনিকায়ন।
দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন ও একীভূতকরণ: বিশ্বমানের ‘অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR)’ পদ্ধতির মাধ্যমে দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক শনাক্তকরণ এবং সেগুলোর মার্জার বা একীভূতকরণের আইনগত ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি।
আইটি ও সাইবার সুরক্ষা: আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টারগুলোর রেসপন্স ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।