রাজধানীর যানজট নিরসন ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে আরেক বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রস্তাবিত ‘এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর রুট)’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে তোলা হচ্ছে। ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা আনুমানিক ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরের পূর্ব-পশ্চিমের যোগাযোগে এক নতুন বৈপ্লবিক যুগ সূচিত হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অর্থায়নে বড় অংশ আসবে সরকারের নিজস্ব তহবিল ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার নমনীয় ঋণ থেকে।
প্রস্তাবিত এই আন্ডারগ্রাউন্ড (পাতাল) ও এলিভেটেড (উড়াল) সমন্বিত রুটটির মূল অবকাঠামোগত বৈশিষ্ট্যসমূহ:
| সূচক / বিবরণ | তথ্য / উপাত্ত |
| মোট দৈর্ঘ্য | ২০.০০ কিলোমিটার (প্রায়) |
| পাতাল অংশ (Underground) | হেমায়েতপুর-মিরপুর হয়ে নতুন বাজার (১৩.৫০ কিমি) |
| উড়াল অংশ (Elevated) | নতুন বাজার থেকে ভাটারা (৬.৫০ কিমি) |
| প্রস্তাবিত স্টেশন সংখ্যা | ১৪টি (৯টি পাতাল ও ৫টি উড়াল স্টেশন) |
| অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় | ৪৫,৫০৪ কোটি টাকা |
প্রকল্প নথি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-৫ উত্তর রুটটি গাবতলী, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত, বনানী ও নতুন বাজারকে সরাসরি যুক্ত করবে।
যানজট হ্রাস: সাভার ও গাবতলী দিক থেকে আসা যাত্রীরা মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর পূর্বাঞ্চল (ভাটারা/কুড়িল) পৌঁছাতে পারবেন, যা প্রথাগত সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ কমাবে।
ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা: এমআরটি-৬ (উত্তরা-মতিঝিল) এবং প্রস্তাবিত এমআরটি-১-এর সাথে মিরপুর-১০ ও নতুন বাজারে সংযোগ বা ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন থাকায় যাত্রীরা সহজেই রুট পরিবর্তন করতে পারবেন।
একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে খুব শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে মূল নির্মাণকাজ শুরু করবে ঢাকা মাশ ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (DMTCL)।