সারাদেশে অতি সংক্রামক ব্যাধি হাম (Measles) ও এর উপসর্গজনিত জটিলতায় মৃত্যুর সংখ্যা ১,০২২ জনে পৌঁছানোর পর উদ্ভূত চরম জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সরকার পরিচালিত দেশব্যাপী জরুরি ‘ক্র্যাশ ড্রাইভ’ ব্যাপক রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪২ হাজারের বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা (MR) টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। একই সাথে হাম-পরবর্তী জটিলতা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে জরুরি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সেবন করানো হয়েছে।
রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, উপকূলীয় চরাঞ্চল, হাওড় এলাকা এবং সিটি করপোরেশনগুলোর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিগুলোতে বিগত সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি থাকায় এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
প্রধান মৃত্যুর কারণ: হামের প্রাথমিক সংক্রমণের পর শিশুদের ফুসফুসে তীব্র নিউমোনিয়া, অনিয়ন্ত্রিত ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং মারাত্মক পুষ্টিহীনতা (Malnutrition) তৈরি হওয়াই ছিল মৃত্যুর মূল কারণ।
চিকিৎসায় বিলম্ব: প্রান্তিক অঞ্চলের রোগীরা যাতায়াত প্রতিকূলতা ও অসচেতনতার কারণে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি করায় মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
| সূচক / বিবরণ | সর্বশেষ পরিস্থিতি ও অর্জন |
| মোট টিকাপ্রাপ্ত শিশু | ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪২ হাজার+ (৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী) |
| ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সেবন | ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশু |
| মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত শক্তি | ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল) টিকাদান টিম |
| বিশেষ অগ্রাধিকার অঞ্চল | পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওড়, চরাঞ্চল ও সকল সিটি করপোরেশনের বস্তি এলাকা |
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ তদারকি জোরদার করেছে:
স্যাটেলাইট টিম ও দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো: নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল ও পাহাড়ের দুর্গম গ্রামগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চালাতে বিশেষ নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও মোবাইল স্যাটেলাইট ইউনিট নিয়োজিত করা হয়েছে।
বিশেষ আইসোলেশন ও অক্সিজেন সাপোর্ট: প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
জনসচেতনতা ও কুসংস্কার রোধ: কবিরাজি বা অপচিকিৎসা এড়িয়ে শিশু জ্বর ও ফুসকুড়িতে আক্রান্ত হওয়ামাত্রই নিকটস্থ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার জন্য মাইকিং ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এই বিশেষ টিকাদান অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে কোনো শিশু এই সুরক্ষাবেষ্টনী থেকে বাদ না পড়ে।