সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর (পে স্কেল) চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদন ও ভেটিং প্রক্রিয়ার জন্য এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি। অর্থমন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা ও অর্থায়নের উৎস সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় ফাইলটি অর্থ বিভাগেই আটকে আছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এই বিলম্বের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত পে কমিশন তাদের মূল সুপারিশগুলো পে পর্যালোচনা কমিটির কাছে জমা দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি (১০৭ ডলার ছাড়ানো) এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই মুহূর্তে নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে গেলে রাজস্ব তহবিলে কী পরিমাণ অতিরিক্ত চাপ পড়বে, তা পুনঃপর্যালোচনা করা হচ্ছে।
একবারে পুরো স্কেল কার্যকর না করে একাধিক ধাপে (Phase-wise) এটি কার্যকর করার একটি প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে বিবেচিত হচ্ছে, যা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতামত চাওয়া হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ‘ভেটিং’ (Vetting)-এর জন্য পাঠানোর কথা থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত আর্থিক সম্মতি বা ‘কনকারেন্স’ না পাওয়া পর্যন্ত তা পাঠানো যাচ্ছে না।
পে স্কেলের প্রস্তাব প্রশাসনিক জটিলতা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আটকে থাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল দ্রুত চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেটের সংস্থান বিবেচনা করে চলতি মাসের শেষের দিকে পর্যালোচনা শেষ হতে পারে। এরপরই কেবল এটি আইনি ভেটিং এবং পরবর্তী ক্যাবিনেট (মন্ত্রিসভা) অনুমোদনের জন্য পাঠানো সম্ভব হবে।