সাব-রেজিস্ট্রেশন কার্যালয়গুলোতে বছরের পর বছর ধরে চলা অসাধু সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও উৎকোচ লেনদেনের শেকড় উপড়ে ফেলতে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ‘লটারি পদ্ধতি’ চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। আজ রাজধানীতে ভূমি নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রশাসনিক সংস্কার বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এই যুগান্তকারী ও কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, বছরের পর বছর ধরে সুবিধাজনক ও লাভজনক সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি ঘিরে কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন এবং আমলাতান্ত্রিক তদবিরের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, লটারি পদ্ধতির স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমের মাধ্যমে তা শতভাগ বন্ধ করা হবে। মন্ত্রী জানান, নতুন এই নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সকল সাব-রেজিস্ট্রারের বদলি কোন অফিসে হবে, তা কোনো ব্যক্তি বা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন না; বরং তা পুরোপুরি লটারির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন—শুধু বদলি প্রক্রিয়ায় লটারি আনলেই ভূমি অফিসের শেকড়গেড়ে বসা দুর্নীতি শতভাগ নির্মূল হবে না, যতক্ষণ না জমি রেজিস্ট্রেশনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দলিল লেখকদের অনিয়ন্ত্রিত ফি প্রথার ওপর কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি নিশ্চিত করা যায়।