×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১০-০৭
  • ২২৪ বার পঠিত

মুজাহিদ হোসেন,জেলা প্রতিনিধি নওগাঁঃ


পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত প্রাচীন বৌদ্ধবিহার। নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা—এই গ্রামটিতে থাকা এই মহাবিহারটি পাল সাম্রাজ্যের সভ্যতা ও বৌদ্ধ শিক্ষা-সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটি বিশ্ব ঐতিহ্যবর্গে অন্তর্ভুক্ত করে।

আদি নির্মাণ-সময় ধরা হয় অষ্টম শতাব্দীর (পাল কাল) মধ্যে; সাম্রাজ্যে ধর্মপাল (Dharma Pāla) ও তাঁর উত্তরসূরি দেবপালদের আলোচ্যকালে সোমপুর মহাবিহারের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। এই বিহারটি সেই সময়ে নানান ধর্মীয়-শিক্ষাগত কর্মকাণ্ডের জন্য বিশিষ্ট কেন্দ্র ছিল এবং নলন্দা, বিক্রমশীলা প্রভৃতি বিখ্যাত বিহারগুলোর সঙ্গে একাডেমিক যোগাযোগবহুল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করত। পরবর্তী শতাব্দীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আক্রমণ ও পরিবর্তিত রাজ্য-সমর্থনের ফলে বিহারটি ক্ষতিগ্রস্ত ও পরিত্যক্ত হয়।

পাহাড়পুর মহাবিহারের মূল আকর্ষণ হল এর বিশাল চতুর্ভুজ পরিকল্পনা — কেন্দ্রীয় স্তূপাকৃতির মন্দিরকে ঘিরে ১৭৭টি সেল ও বহুসংখ্যক স্তূপ, মঠ এবং সহায়ক নির্মাণ। সংরক্ষিত বর্গকোণে ভেন্ডর ও তেরাকোটা প্যানেলে খোদাই করা ধর্মচরিত, দেবদেবী আয়াম ও জটিল অলংকরণ দেখা যায়। সমগ্র কমপ্লেক্স যান্ত্রিকভাবে পরিকল্পিত ও প্যালা স্থাপত্য-শৈলীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আয়তনে এটি হিমালয়ের দক্ষিণে অন্যতম বৃহৎ মহাবিহার।

১৯৩০-১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ও পরে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদেরা এখানে বৈজ্ঞানিক খনন চালান; পরে ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক দলগুলো মেরামত, সংরক্ষণ ও মানচিত্রণ কাজের মাধ্যমে সাইটের গবেষণা ও রক্ষণাবেক্ষণে সহযোগিতা করে। ইউনেস্কো ১৯৮৫ থেকে ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান ও টেকনিক্যাল সাহায্য প্রদান করে এসেছে। তবে অনেক তেরাকোটা ও মূর্তিকর্ম আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সংকটের সম্মুখীন।

সোমপুর মহাবিহার শুধু নৈরাজ্য-প্রাচীন স্থাপত্য নয়; এটি ছিল এককালে দক্ষিন এশিয়ার বুদ্ধধর্মীয় শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র—পণ্ডিত, ভিক্ষু ও ছাত্রদের মিলনস্থল, যেখানে বৌদ্ধ তত্ত্ব, দর্শন, ভূগোল ও কুশলশিল্প বিকশিত হতো। স্থানীয় জনগণ ও বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ইতিহাসে পাহাড়পুর একটি গৌরবোজ্জ্বল স্থান হিসেবে বিবেচিত।

ইতিহাসে প্রত্নধ্বংস ও ঊষ্ম বলয়ের কারণে বহু অমূল্য ভাস্কর্য ও টেরাকোটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাছাড়া ঝড়, ভারি বৃষ্টিপাত, মাটির ক্ষয়, পর্যটনচাপ এবং সীমিত তহবিল—এসবই বড় চ্যালেঞ্জ। ইউনেস্কো ও জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংযুক্ত প্রকল্প চালাচ্ছে, তবে স্থানীয় সচেতনতা ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিল প্রয়োজন।

পাহাড়পুরে আসা-যাওয়া সহজ: নওগাঁ/রাজশাহী থেকে সড়কপথে যাবার অপশন আছে; স্থানীয় গাইড থাকলে দর্শন আরও তথ্যবহুল হয়।

দর্শনার্থীদের জন্য সাইট-রুল মেনে চলা জরুরি: অবকাঠামোতে আঘাত না করা, নিদর্শন অপসারণ বা স্থানে পরিবর্তন করা অনুচিত।

স্থানীয় অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে সমর্থন করতে মাঝেমাঝে স্বল্পমূল্যের গাইড সার্ভিস, স্মারক সামগ্রী—এসব নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত।

পাহাড়পুর বা সোমপুর মহাবিহার বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের এক মণি। এটি কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়—মধ্যযুগীয় বৌদ্ধ শিক্ষার স্মারক, অঞ্চলভিত্তিক সংঘটিত সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের নিদর্শন। স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে এই সাইটের টেকসই সংরক্ষণ, পর্যটন-নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষণীয় প্রোগ্রামের আয়োজন জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহ্যের যথাযথ মূল্যায়ন ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat