নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
যেকোনো গণতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব পালন করে পুলিশ, র্যাব, আনসার এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মতো প্রথাগত প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকার মনে করে, আকস্মিক বা সাময়িক কোনো যৌথ টাস্কফোর্স কিংবা বিশেষ কাঠামোর চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে এই প্রচলিত বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা বারবার উল্লেখ করেছেন যে, পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য প্রথাগত সংস্থাকে তাদের পেশাদারিত্বের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন কোনো বাহিনী বা বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করার চেয়ে প্রচলিত বাহিনীকে চাঙ্গা করা অনেক বেশি কার্যকর ও যুক্তিযুক্ত।
আইনশৃঙ্খলার মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত পুলিশ বাহিনীকে ঘিরে সরকারের নানামুখী সংস্কার পরিকল্পনা রয়েছে। বিগত দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের কারণে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এখন বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং তাদের ঐতিহ্যগত জনবান্ধব চরিত্রে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন। প্রতিটি থানাকে প্রকৃত অর্থে সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু বা অপরাধ প্রতিকারের ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। থানায় জিডি বা মামলা নিতে গড়িমসি রোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দমনে প্রচলিত বাহিনীগুলোর সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি বা ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হেনস্তার শিকার না হয়। প্রথাগত বাহিনীর রুটিন টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অপরাধের হটস্পটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে যে অনভিপ্রেত ‘মব জাস্টিস’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, তা দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। প্রথাগত আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের প্রচলিত আইনের মুখোমুখি করা হবে।
প্রচলিত বাহিনীর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকারের ওপর। অতীতে পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর কিছু সদস্যের অপেশাদার আচারণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে বা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পেশাগত সততা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে।
সাধারণ জনগণের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো দিনের আলোয় ও রাতে নিরাপде চলাচল করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা। সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, মাঠপর্যায়ে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং জোরালো টহলের কারণে অনেক এলাকায় অপরাধের হার কমে এসেছে।
পরিশেষে বলা যায়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় নতুন কোনো জটিল বা অপ্রচলিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে প্রথাগত ও সাংবিধানিক বাহিনীগুলোর ওপর ভরসা রাখাই সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সম্পূর্ণ পেশাদার ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী ও টেকসই উন্নতি সম্ভব। সরকারের ধারাবাহিক সদিচ্ছা, সঠিক তদারকি এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং শৃঙ্খলিত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভবপর হবে।