×
সদ্য প্রাপ্ত:
দেশের পাঁচ অঞ্চলে ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৬২ কোটি ঘনফুট ঢাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গতিবিধি এবং বহিরাগতদের ওপর নজরদারি করতে চালু হচ্ছে এআই ক্যামেরা ভারতসহ ১০ দেশের ওপর শতভাগ শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের চার্জশিট দাখিল সরকার বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না: রাশেদ খাঁন ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ আসিফ নজরুলের ‘একক সিদ্ধান্তে’ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সিলেটে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-১৭
  • ২৭ বার পঠিত

দেশের নিম্নবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও প্রবাসীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালু থাকা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও অধিকতর জনমুখী, আকর্ষণীয় ও যুগোপযোগী করে তুলতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী সংস্কার ও নতুন ছয়টি সুবিধা যুক্ত করার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। বর্তমান ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দূর করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হিসেবে পেনশন উত্তোলনের বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র ৫৫ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই নতুন প্যাকেজের আওতায় যুক্ত হওয়া প্রধান ছয়টি সুবিধা ও কাঠামোগত সংস্কারের বিস্তারিত রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ১. ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন সুবিধা: প্রচলিত নিয়মে এতদিন ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে পেনশন তোলার কোনো সুযোগ ছিল না, তবে সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বয়সসীমা কমিয়ে তা ৫৫ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত বছর পর্ষদের বৈঠকে ৩০ শতাংশ টাকা এককালীন তোলার সুযোগ রাখা হলেও এখন পুরো প্রক্রিয়াটি আরও নমনীয় করা হচ্ছে।

  • ২. স্বামী বা স্ত্রীর আজীবন পেনশন: বিদ্যমান নিয়মে পেনশনগ্রহীতা মারা গেলে তাঁর নমিনি কেবল ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় অব্দি পেনশন পেতেন। তবে সরকারি পেনশনের আদলে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এখন থেকে পেনশনগ্রহীতা মারা যাওয়ার পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রী আজীবন সমহারে মাসিক পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

  • ৩. নামমাত্র খরচে স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা: পেনشনারদের বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসার উচ্চ ব্যয় লাঘব করতে তাঁদের অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসার খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে মাসিক মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়ামের বিনিময়ে এই বিশেষ স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

  • ৪. জমাকৃত অর্থ থেকে ঋণ সুবিধা: জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে গ্রাহকরা তাদের মোট জমানো তহবিলের একটি নির্দিষ্ট অংশ শর্ত সাপেক্ষে ঋণ হিসেবে উত্তোলন করতে পারবেন, এবং পরবর্তীতে সেই ঋণের বিপরীতে প্রদেয় সুদের অর্থও সরাসরি গ্রাহকের নিজস্ব পেনশন হিসাবের সাথেই যুক্ত হবে।

  • ৫. জরুরি প্রয়োজনে এক্সিট বা ফান্ড প্রত্যাহারের সুযোগ: এতদিন স্কিমে একবার যুক্ত হলে মাঝপথে তা তুলে নেওয়ার বা বের হয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় অনেকের মধ্যে একধরনের অনীহা কাজ করত। এই জটিলতা কাটিয়ে উঠতে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, টানা অন্তত ৫ বছর নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার পর কেউ গুরুতর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার শিকার হলে বিশেষ বিবেচনায় সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নিয়ে স্কিম থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • ৬. শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক পেনশন স্কিম: প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের চাহিদাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত উপায়ে একটি পৃথক ইসলামিক পেনশন স্কিম চালুর কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিগত তিন বছরে এই সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও, এই ছয়টি জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবসম্মত সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে তা দেশের বিশাল শ্রমজীবী, প্রান্তিক ও অনিয়মিত আয়ের মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তার এক অভূতপূর্ব সুরক্ষাবলয়ে নিয়ে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat