ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবসহ যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের তথ্য ও গোপনীয় নথিপত্র তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রেরণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, অভিযুক্ত আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী বিশ্বের অন্তত পাঁচটি ভিন্ন দেশে সন্দেহজনক ও বেনামি ট্রানজেকশনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন এবং দেশে-বিদেশে একাধিক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, যার কোনো বৈধ আয়ের উৎস বা সঠিক হিসাব তাঁদের সুনির্দিষ্ট সম্পদ বিবরণীতে পাওয়া যায়নি।
দুদকের এই জোরালো অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিএফআইইউয়ের কাছে প্রেরিত চিঠিতে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, লকার, ক্রেডিট কার্ড, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ এবং বিগত কয়েক বছরের সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী দ্রুত সময়ের মধ্যে সরবরাহ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা দুর্নীতি দমন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এবং এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগের গভীরে গিয়ে অভিযুক্তদের দেশি ও আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং শেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সমস্ত তথ্য উদঘাটন করা হলে খুব শীঘ্রই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে দুদক সূত্রে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।