×
সদ্য প্রাপ্ত:
ইসরায়েলে ২৮০ কোটি ডলারের শক্তিশালী বোমা পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগ: এনসিপি নেত্রীকে সাময়িক অব্যাহতি দেশের পাঁচ অঞ্চলে ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৬২ কোটি ঘনফুট ঢাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গতিবিধি এবং বহিরাগতদের ওপর নজরদারি করতে চালু হচ্ছে এআই ক্যামেরা ভারতসহ ১০ দেশের ওপর শতভাগ শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের চার্জশিট দাখিল সরকার বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না: রাশেদ খাঁন ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ আসিফ নজরুলের ‘একক সিদ্ধান্তে’ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-১৭
  • ২৮ বার পঠিত
মোঃ অলি উদ্দিন মিলন

​স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার হলেও দেশে তা বর্তমানে পদে পদে ভোগান্তি ও বাণিজ্যিকীকরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকের ফি, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ও ঔষধের বাজারে তীব্র নৈরাজ্যের কারণে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত রোগীরা দিশেহারা।

​চিকিৎসক-রোগী অনুপাত ও জনবল সংকট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১,০০০ জন জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত ১ জন চিকিৎসক এবং প্রতি ১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ৩ জন নার্স থাকা আবশ্যক। অথচ বাংলাদেশে এই অনুপাত চরমভাবে ভারসাম্যহীন। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে সেবা মিলছে না। অ্যানাস্থেটিস্ট ও টেকনিশিয়ানের তীব্র সংকটের কারণে অনেক সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (OT) ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (ICU) বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

​অনিয়ন্ত্রিত ফি ও কমিশন বাণিজ্য
বেসরকারি খাতে চিকিৎসকদের ভিজিট বা ফি নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে যে যাঁর ইচ্ছেমতো ফি নিচ্ছেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে চিকিৎসকদের নেওয়া টেস্ট কমিশন ও রেফারেল ফি। ফলে অপ্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল টেস্ট করিয়ে রোগীদের অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা হচ্ছে।

​কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অপচয়
টিআইবি (TIB) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম (যেমন: আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান মেশিন) ক্রয়ে অস্বাভাবিক অতিরিক্ত দর দেখিয়ে বাজেট অপচয় করা হয়। দেখা গেছে, কেনা যন্ত্রপাতির একটি বড় অংশ স্রেফ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকনিশিয়ানের অভাবে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা অধিকাংশ পরিবার কোনো না কোনো পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বা ঘুষ দিতে বাধ্য হন।

​ফার্মাসিউটিক্যাল সিন্ডিকেট ও ঔষধের দামের তাণ্ডব
রোগীদের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের (Out-of-Pocket Expenditure) একটি বড় অংশ চলে যায় ঔষধ কেনায়। ব্র্যান্ডেড ঔষধের প্রসারে অসাধু কিছু কোম্পানি চিকিৎসকদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জেনেরিক বনাম ব্র্যান্ডের দামের তফাত: একই জেনেরিক নাম (Generic Name) বা রাসায়নিক উপাদানের ঔষধ হওয়া সত্ত্বেও ব্র্যান্ডভেদে মূল্যের পার্থক্য অনেক বেশি।
​বিনামূল্যের সরকারি ঔষধ পাচার: সরকারি হাসপাতালে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত বিনামূল্যে বিতরণের ঔষধের একটি অংশ অসাধু চক্রের মাধ্যমে পাচার হয়ে বাইরের ফার্মেসিতে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

​জরুরি সংস্কারে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ
​ফি ও টেস্টের মূল্য নির্ধারণ: অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের ভিজিট এবং বেসরকারি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা। ​জেনেরিক প্রেসক্রিপশন বাধ্যবাধকতা: আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে ব্র্যান্ডের বদলে ঔষধের মূল উপাদান বা জেনেরিক নাম লেখার নির্দেশ দেওয়া। ​কেনাকাটায় স্বচ্ছতা: সরকারি স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় ই-জিপি (e-GP) নিশ্চিত করা এবং ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তর (DGDA) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) নিয়মিত তদারকি বাড়ানো। ​প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার: উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা।

​স্বাস্থ্য খাতকে পুরোপুরি কার্যকর ও বৈষম্যহীন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর মনিটরিং এবং টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat