দেশের ব্যাংকিং খাতের মতো বিমা খাতেও চরম অনিয়ম ও লুটপাট চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। সাধারণ গ্রাহকের জমা রাখা পাওনা ও বিমা দাবি সময়মতো পরিশোধ না করে দিনের পর দিন তা আটকে রাখা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রয়োজনে অনিয়মে জড়িত বিমা কোম্পানিগুলোর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও গ্রাহকের বকেয়া টাকা পরিশোধের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিমা খাতের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি, বিমা দাবি নিষ্পত্তির বিলম্ব এবং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইন ভেঙে অর্থ লোপাট ও গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে অবহেলার বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী:
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের মতো বিমা খাতেও দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থাপনা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। বিমা খাতের ওপর সাধারণ মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তা কাটানো সম্ভব নয়।
যেসকল বিমা কোম্পানি মেয়াদপূর্তির পরও গ্রাহকের বিমা দাবি (Insurance claims) পরিশোধ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে কোম্পানির নিজস্ব সম্পদ ও মালিকদের সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (IDRA) অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মে জড়িত কোম্পানিগুলোর ওপর বিশেষ নিরীক্ষা (Special audit) চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দেশের একাধিক লাইফ ও নন-লাইফ বিমা কোম্পানি মেয়াদপূর্তির পর গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় খাতে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। অর্থমন্ত্রীর এই সরাসরি হুঁশিয়ারির পর খাতটিতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবির জট কাটবে বলে আশা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।