দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। দেশটিতে কর্মী নিয়োগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্যের অভাবে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি এবং প্রতারণার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মালয়েশিয়া সরকার এক মাস আগে কর্মী নিয়োগের সময়সূচী ও প্রক্রিয়া প্রকাশ করলেও বাংলাদেশে সরকারি প্রচারণার অভাবে তৈরি হয়েছে তথ্যের শূন্যতা:
দালাল ও এজেন্সির প্রভাব: সরকারি নির্দেশনার আগেই অনেক অবৈধ দালাল ও ট্রাভেল এজেন্সি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাসপোর্টের অপব্যবহার, মেডিকেল পরীক্ষা ও অর্থ গ্রহণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের সতর্কতা: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা, অর্থ লেনদেন বা মেডিকেল না করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।
৩৩৮ এজেন্সির তালিকা ঘিরে বিতর্ক: সম্প্রতি মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক ঘোষিত ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির (২৫টি প্রধান, ২৫০টি সহযোগী এবং বোয়েসেলের ৬২টি) তালিকা ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী 'সহযোগী এজেন্সি' কাঠামোর আড়ালে প্রকৃতপক্ষে পুনারায় সিন্ডিকেট ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
বিদ্যমান অনিয়ম কাটিয়ে উঠতে সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানোর একটি বিশেষ মডেল হাতে নেওয়া হয়েছে:
১০ হাজার কর্মী নিয়োগ: মালয়েশিয়ার সেবা খাতের সংকট মোকাবিলায় বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে প্রথম দফায় প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
বিনামূল্যে অভিবাসন: ২০২৪ সালের ১ জুনের সময়সীমার মধ্যে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হওয়া কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে বিনামূল্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নবায়ন: বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে চলায় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা এবং সকল বৈধ এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নতুন চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো নয়, স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও কম খরচ নিশ্চিত করাই হতে হবে বাংলাদেশের জনশক্তি খাতের মূল সাফল্য।