আগামী তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশ পুনর্গঠন ও ডেঙ্গু নিরসনে তরুণ সমাজের অপরিসীম ক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি পরিচ্ছন্ন পরিবার, সমাজ ও দেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে দিনে অন্তত এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান–২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে অনলাইনে দেশের সর্বস্তরের স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লাখ লাখ তরুণ স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিশাল ছাত্র ও তরুণ সমাজের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাদের সংগঠিত শক্তির চিত্র প্রকাশ করেন:
বিশাল তরুণ সমাজ: বাংলাদেশে প্রায় ২৩ লাখ স্কাউটস এবং ২২ হাজার বিএনসিসি সদস্য রয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রায় দেড় কোটি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে।
দেশ পুনর্গঠনে তরুণরা: এত বিশাল পরিমাণের তরুণ জনগোষ্ঠী যদি দেশ পুনর্গঠনে একসঙ্গে মাঠে নামে, তবে কোনো বাধাই দেশকে এগিয়ে নেওয়া থেকে থামিয়ে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঐতিহাসিক উদাহরণ: তরুণদের পরিবর্তনের সক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তা তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে এবং সেখান থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।
দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য এবং করণীয় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী:
৮০ শতাংশ সাফল্যের আশা: আগামী তিন মাসের প্রচেষ্টায় হয়তো শতভাগ ডেঙ্গু দূর করা সম্ভব না হলেও অন্তত ৮০ শতাংশ সফলতা অর্জন সম্ভব বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উৎস নির্মূল: জমে থাকা পানি, প্লাস্টিক ও পরিত্যক্ত পাত্রের মতো এডিস মশার প্রজননস্থলগুলো সবাই মিলে পরিষ্কার রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।
সপ্তাহে এক ঘণ্টার অবদান: নিজের বাড়ি, স্কুল, কলেজ বা কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, একটু সচেতন হলেই দ্রুত পরিস্থিতি বদলে ফেলা সম্ভব।
অসচেতনতা রোধ: যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা মানুষকে নিরুৎসাহিত করা এবং ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়া রোগজীবাণু যাতে আপনজনদের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন সমাজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন এবং উপস্থিত তরুণ সমাজকে এই সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করার শপথ পাঠ করান।