প্রতিবেশী দেশ ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রাগারে বর্তমানে আনুমানিক ১৯০টি সক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড (Nuclear Warheads) রয়েছে এবং দেশটি তাদের কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতা ও মজুত দ্রুত সম্প্রসারণ করে চলেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু ও অস্ত্র নজরদারি সংস্থাগুলোর সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক সামরিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে ভারতের পারমাণবিক আধুনিকায়ন ও অস্ত্র সম্ভারের এই নতুন চিত্র প্রকাশ পায়।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পারমাণবিক কৌশল ও ট্রায়াড (স্থল, আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা) শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে:
ওয়ারহেডের বর্তমান সংখ্যা: দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা বলয়ে নিজেদের আধিপত্য ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় ভারত তাদের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করে আনুমানিক ১৯০টিতে উন্নীত করেছে।
মজুত বৃদ্ধির রূপরেখা: প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে যে, ভারত তাদের দীর্ঘমানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (যেমন অগ্নি-৫) এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (SLBM) বিস্তার অব্যাহত রাখায় আগামী বছরগুলোতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।
কৌশলগত পরিবর্তন: ঐতিহ্যগত 'নো ফাস্ট ইউজ' (No First Use) নীতির চর্চা বজায় রাখলেও, নতুন প্রজন্মের ডাবল-ক্যাপাবল ক্ষেপণাস্ত্র ও প্লুটোনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশটি নিজেদের দূরপাল্লার হামলা চালানোর ক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সীমান্ত উত্তেজনা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজস্ব আধিপত্য বজায় রাখার অংশ হিসেবেই ভারত তাদের পারমাণবিক মজুত দ্রুত আধুনিকায়ন করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নতুন মাত্রার সমীকরণ তৈরি করতে পারে।