×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-০৫
  • ১৪৪ বার পঠিত
প্রতিনিধি: ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট — সিয়াম পাটওয়ারী

উপসহকারী প্রকৌশলী পদে প্রস্তাবিত ৩৩ শতাংশ কোটার সুপারিশকে সম্পূর্ণভাবে বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে তাদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হবে এবং কারিগরি শিক্ষার মূল ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা ঢাকা–ময়মনসিংহ রেললাইনসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ অবরোধ করেন। ঢাকার আশপাশের রেললাইন, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হলেও আন্দোলনকারীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় তারা বাধ্য হয়েই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, বগুড়া, রংপুর ও সিলেটসহ দেশের প্রায় সব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, ৩৩ শতাংশ উপসহকারী প্রকৌশলী কোটার সুপারিশ বাতিল না হলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আইডিবির আহ্বায়ক জনাব প্রকৌশলী কবির হোসেন-এর ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো সুপারিশে তিনি কখনোই সমর্থন দেননি। জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে তিনি ওই সময় নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় একটি পক্ষ তার বাসায় গিয়ে ৩৩ শতাংশ কোটার পক্ষে গঠিত একটি কমিটির নথিতে সাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পকচলী কবির স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি কখনোই এমন কোনো অন্যায্য সুপারিশে সাক্ষর করবেন না। তিনি বলেন, ৩৩ শতাংশ তো দূরের কথা, এমনকি ১ শতাংশ থাকলেও তিনি তাতে সাক্ষর দেবেন না।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা বলছেন, দেশের শিল্পকারখানা, রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও অবকাঠামো খাতে বাস্তব কাজের মূল ভার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কাঁধেই। অথচ সেই বাস্তব অবদান উপেক্ষা করে কাগুজে সুপারিশের মাধ্যমে তাদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৩৩ শতাংশ উপসহকারী প্রকৌশলী কোটার সুপারিশকে তারা সেই বৈষম্যেরই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা পেশার বিরুদ্ধে নয়, বরং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat