সাইফুল ইসলাম
পটিয়া উপজেলা প্রতিনিধি ।
নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সমাবেশ—সবখানেই শোনা যাচ্ছে একটি বিতর্কিত স্লোগান:
“তারেক জিয়ার কোন প্ল্যান? মানুষ মারার মাস্টারপ্ল্যান।”
এই স্লোগানটি হঠাৎ করে কেন মুখে মুখে—তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সহিংসতা রোধে দলীয় পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীরা।অন্যান্য দলীয় সমর্থকরা বলছেন, বিএনপির দলীয় প্রতিহিংসা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়াতেই এই স্লোগানের জন্ম। অন্যদিকে বিএনপি এটিকে ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ হিসেবে দেখছে।
সহিংসতার অভিযোগ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে সংঘটিত খুন, চাঁদাবাজি, মারামারি ও দখলবাজির অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, “যখন একটি দল সহিংস ঘটনার দায় স্বীকার না করে বা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তখন জনমনে ভয় ও ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই এমন স্লোগান জনপ্রিয় হতে পারে।”
নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতা ও জনমনের আশঙ্কা
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তারা উন্নয়ন কিংবা রাজনৈতিক আদর্শ নয়—এখন সবচেয়ে বেশি চান নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা।
চট্টগ্রামের এক ভোটার বলেন,
“যে দল ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদের আগে প্রমাণ করতে হবে তারা মানুষ মারবে না, চাঁদাবাজি বন্ধ করবে। না হলে মানুষ ভয় পায়।”
দলীয় পদক্ষেপ না থাকলে কী ক্ষতি হচ্ছে
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ থাকলেও যদি দলীয়ভাবে কঠোর বার্তা না দেওয়া হয়, তাহলে এর কয়েকটি বড় ক্ষতি হতে পারে-
জনসমর্থন কমে যাওয়া:সাধারণ মানুষ সহিংস রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া, নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া,আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক বার্তা যাওয়া,দলের ভেতরে অপরাধপ্রবণ অংশ আরও বেপরোয়া হওয়া।
বিএনপির একাধিক নেতা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, “দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে সেটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়।” তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—তাহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কোথায়?
রাজনীতিতে স্লোগান আসে, যায়। কিন্তু কোনো স্লোগান যখন মানুষের মুখে স্থায়ী জায়গা করে নেয়, তখন সেটি আর নিছক কথার খেলায় থাকে না—তা হয়ে ওঠে জনমনের প্রতিফলন।
নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন একটাই—সহিংস রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।