মনির হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
গণমাধ্যমে ন্যায্যতা, বৈচিত্র্য ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সকল লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষের সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য—এমন অভিমত উঠে এসেছে নেত্রকোণায় অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায়।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভয়েস–এর উদ্যোগে “গণমাধ্যমে বৈচিত্র্য, লিঙ্গসমতা ও প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে নীতিমালা প্রণয়ন” শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় স্বাবলম্বী উন্নয়ন সংস্থার ড্রিম সেন্টারে। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সম্পাদক, সাংবাদিক, বার্তা সম্পাদক, মানবসম্পদ বিভাগে যুক্ত কর্মী এবং সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতিবন্ধিতা ও লিঙ্গবৈচিত্র্য বিষয়ে মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংবাদকক্ষে এসব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা, বৈষম্য ও তা দূর করার বাস্তবসম্মত কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন,
“নীতিমালার অভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও লিঙ্গবৈচিত্র্য সম্পন্ন মানুষেরা অনেক সময় গণমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে নিয়োগ, সংবাদ পরিবেশন, কর্মপরিবেশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সাংবাদিকতা শিক্ষার্থীদেরও এ বিষয়ে আগেভাগে সচেতন করা প্রয়োজন।”
গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী ও লিঙ্গবৈচিত্র্য সম্পন্ন মানুষের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে ভয়েস-এর প্রোগ্রাম অফিসার প্রিয়তা ত্রিপুরা বলেন,
“এই জনগোষ্ঠীকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়। গণমাধ্যম যদি তাদের ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরে, তাহলে সমাজের ভুল ধারণা ভাঙবে। এজন্য সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি।”
কর্মশালায় প্রশিক্ষণ সহায়ক হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল। তিনি বলেন,
“গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী কর্মীদের নিরাপদ যাতায়াত, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ব্রেস্টফিডিং কর্নারসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কর্মক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা ও ন্যায্যতা আরও দৃঢ় হবে।”
আলোচনায় গণমাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালায় যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়, তার মধ্যে রয়েছে—প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সকল লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষের ন্যায্য উপস্থাপনা, প্রবেশগম্য সংবাদ প্ল্যাটফর্ম, অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ ও মানবসম্পদ নীতি, ভাষা ব্যবহারে সংবেদনশীল নির্দেশনা, অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন জোরদার করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং মানবাধিকারভিত্তিক গল্প বলার কাঠামো।
উল্লেখ্য, ইউনেস্কোর সহায়তায় ভয়েস বর্তমানে ‘লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে বৈচিত্র্য’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবাদচর্চায় সহায়ক হবে।
কর্মশালায় যমুনা টিভি, বাংলাভিশন, নাগরিক টিভি, একুশে টিভি, প্রথম আলো, ডেইলি সান, দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন, দৈনিক নেত্র, দৈনিক বাংলার দর্পণ, আজকের পত্রিকা ও দৈনিক সকালবেলার স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ জাতীয় আরো খবর..