কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন–শাহপরীর দ্বীপ নৌরুটে আবারও স্পিডবোট দুর্ঘটনা ঘটেছে। পর্যটক ও স্থানীয়দের নিয়মিত চলাচলের এই রুটে সোমবার সকালে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোট উল্টে মা–মেয়েসহ দু’জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন আরও ছয়জন।
আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ওই স্পিডবোটটি শাহপরীর দ্বীপের ঘোলাচর এলাকার কাছে পৌঁছানোর পর আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। প্রচণ্ড ঢেউ ও হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসের কারণে স্পিডবোটটি নিয়ন্ত্রণ হারায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে অন্তত ৮ জন যাত্রী সাগরে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যান।
নিহত মা–মেয়ে
দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন—
মরিয়ম বেগম (৩০), স্ত্রী: মাহফুজ রহমান, বাসিন্দা: সেন্টমার্টিন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পাড়া
শিশু মায়মা (৩), মরিয়মের কন্যা
স্পিডবোট উল্টে যাওয়ার পর স্থানীয় জেলে ও নৌযান কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার কাজে নামেন। পরে তাদের সহযোগিতায় ৮ জন যাত্রীকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মরিয়ম বেগম ও তার শিশু মেয়েকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অবস্থা
উদ্ধার হওয়া বাকি ছয় যাত্রীর মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক থাকলেও বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন আছেন। বাকিরা শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
নৌযানে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই নৌরুটে প্রতিদিন শত শত যাত্রী চলাচল করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, চরম ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়া ও উচ্চ ঢেউ সত্ত্বেও অনেক স্পিডবোট মালিক যাত্রী নিয়ে সমুদ্রে নামছেন। পর্যাপ্ত লাইফজ্যাকেট, দক্ষ নৌযান চালক ও আবহাওয়ার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে অভিযোগ তাদের।
ওসি’র নিশ্চিতকরণ
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন,
“শাহপরীর দ্বীপের ঘোলাচর পয়েন্টে একটি স্পিডবোট ডুবে মা–মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। কী কারণে নৌযানটি উল্টে গেল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও নৌপুলিশের তৎপরতা
দুর্ঘটনার পর নৌপুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিয়মিত নৌযান নিরাপত্তা যাচাই ও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে যাত্রীবাহী নৌযান বন্ধের বিষয়টি আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন,
“সেন্টমার্টিন–টেকনাফ নৌরুটে বছরের পর বছর ধরে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান নেওয়া হয়নি। প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলেও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
দুঃখে স্তব্ধ পরিবার
নিহত মরিয়ম বেগমের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক এক যাত্রাপথেই মা–মেয়ের মৃত্যুতে পুরো পরিবারসহ স্থানীয়রা শোকে মুহ্যমান।
আবহাওয়া ও সমুদ্রের পরিস্থিতি
ঘটনার সময় সাগরে মাঝারি থেকে তীব্র ঢেউ ছিল বলে জেলেরা জানিয়েছেন। তারা আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ছোট স্পিডবোট সমুদ্রে চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এ জাতীয় আরো খবর..