নরিন জাহান, জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ :
ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত আরও দ্রুত, সহজ ও আধুনিক করতে মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। গাবতলী থেকে নিউমার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে অর্থায়ন চেয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেল লাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার। প্রকল্পটির আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার হবে পাতালপথ এবং বাকি অংশ নির্মিত হবে উড়ালপথে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে ঢাকা উদ্যান, বসিলা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভুইগড়, চাষাঢ়া ও শিবু মার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছাবে এই মেট্রোরেল।
অর্থায়নের পাশাপাশি মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহায়তাও চেয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রস্তাব গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুমোদনের পর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বিশ্বব্যাংকের কাছে অর্থায়নের অনুরোধ পাঠায়। তবে প্রকল্পটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যাতায়াতব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত যাত্রীদের যাতায়াত আরও সুবিধাজনক হতে পারে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও নগর যোগাযোগব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে অর্থায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা ও অর্থায়নের সিদ্ধান্তের পরই প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি আরও স্পষ্ট হবে।
এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা—পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে; দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাক ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল প্রকল্প।
এ জাতীয় আরো খবর..