মোঃ রাফসান জানি, ভোলা:
বাবাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে অনশনে বসেছেন নয়ন খান। তার দাবি—ভোলা সদর হাসপাতালে দ্রুত আইসিইউ (ICU) ও সিসিইউ (CCU) চালু করতে হবে। চিকিৎসার অভাবে আর কোনো রোগীর প্রাণ যেন না হারায়, সে দাবিতেই তার এই অবস্থান।
নয়ন খান জানান, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তার বাবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জুনায়েদ আহমেদ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নয়ন বলেন, ভর্তি করার পর ধীরে ধীরে তার বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ সময় চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করলে তাকে জানানো হয়, রোগীর জন্য আইসিইউ বা সিসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। কিন্তু ভোলায় প্রয়োজনীয় এই সুবিধা না থাকায় রোগীকে বরিশালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নয়ন খানের অভিযোগ, ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একটি আইসিইউ বিভাগ থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে চালু নেই। তার প্রশ্ন, ‘‘ভোলায় আইসিইউ-সিসিইউ চালু থাকলে হয়তো আজ আমার বাবাকে হারাতে হতো না।
বাবাকে হারানোর পর এখন তার একটাই দাবি—দ্বীপ জেলা ভোলায় দ্রুত আইসিইউ ও সিসিইউ চালু করা।
নয়ন খান বলেন, ‘‘আইসিইউ-সিসিইউয়ের অভাবে যেন ভোলার আর কোনো মানুষের প্রাণ না যায়। যতদিন পর্যন্ত ভোলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ চালু না হবে, ততদিন আমি আমার দাবি নিয়ে প্রতিদিন এখানে আসব এবং অনশন চালিয়ে যাব।
তিনি ভোলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধু তার একার দাবি নয়; এটি ভোলার সাধারণ মানুষের অধিকার ও জীবন রক্ষার দাবি।
তার দাবি, ‘‘দাবি একটাই—ICU ও CCU চাই, এখনই চাই। চিকিৎসার অভাবে আর কোনো প্রাণ ঝরে পড়ুক—এটা মেনে নেওয়া যায় না।’’
ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ সেবা চালু করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এ জাতীয় আরো খবর..