অর্থনীতি ব্যুরো:
দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে কোনোভাবেই স্থিতিশীলতা ফিরছে না। কখনো সাময়িক লেনদেন বাড়লেও পরের মাসেই তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পাক্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর ২০২৬-এর প্রথমার্ধে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন হয়েছে ২১৪ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষার্ধের (৩৪৬ কোটি টাকা) তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম।
পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারে টানা কয়েক বছর ধরে নিট বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহ (Capital Outflow) ঋণাত্মক থাকায় বাজারের দীর্ঘমেয়াদি সুসংহত অবস্থান নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরের (২০২৬) হিসাব: জানুয়ারিতে ৩৭৭ কোটি টাকা থেকে লাফিয়ে ফেব্রুয়ারিতে লেনদেন দাঁড়ায় ৬৬৩ কোটি টাকায়। তবে মে মাসে তা ভয়াবহ রূপ নিয়ে মাত্র ৭৪ কোটি টাকায় নেমে আসে। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরে তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫৮১ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।
বিগত অর্থবছরগুলোর পরিসংখ্যান: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসইতে বিদেশিদের লেনদেন ছিল ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের (৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা) চেয়ে সামান্য বেশি। তবে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৩ মাসে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।
ধারাবাহিক বহিঃপ্রবাহ: ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের নিট প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮২০ কোটি টাকার নিট বহিঃপ্রবাহ ঘটে। ২০২৪-২৫ সালে তা কমে ১,৬৮০ কোটি টাকায় নামলেও সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বহিঃপ্রবাহ আবার বেড়ে দাঁড়ায় ২,৭২১ কোটি টাকায়।
শেয়ারবাজারে শেয়ারের হার হ্রাস: ২০১৬ সালে ডিএসইর মোট লেনদেনে বিদেশিদের অংশগ্রহণ ছিল ৩.৬৮ শতাংশ (৮,৭৭৩ কোটি টাকা)। কোভিডের বছর ২০২০ সালে তা ৩.৮৫ শতাংশে উঠলেও পরবর্তীতে হু হু করে কমতে থাকে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে তা নেমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ০.৮৯% ও ০.৭৭%-এ। ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে তা হয় ১.২২%।
বাজারসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—শেয়ারদরের অনিশ্চয়তা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার/মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা এবং লভ্যাংশ বা মূলধন সহজে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন (Repatriation) করার চ্যালেঞ্জের কারণেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ওপর আস্থা ধরে রাখতে পারছেন না।