আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনা প্রতিষ্ঠান ‘আরামকো’র শেবা তেলক্ষেত্রে পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সংঘটিত এসব হামলায় এক বিদেশি নাগরিকসহ মোট তিনজন নিহত এবং অন্তত দশজন আহত হয়েছেন।
দাম্মাম বিমানবন্দর হামলা: সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় একজন বিদেশি নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের উৎস বা মডেল সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।
আরামকো তেলক্ষেত্র হামলা: সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে আরামকোর শেবা তেলক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন মাঝপথে ধ্বংস করে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ধ্বংসাবশেষ তেলক্ষেত্রের সীমানার বাইরে কর্মরত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের একটি গাড়ির ওপর পড়ে ফিলিপাইন ও নেপালের দুই নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে পাকিস্তানি ও ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।
উৎপাদন অক্ষুণ্ণ: সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, হামলার ঘটনাটি মূল সীমানার বাইরে ঘটায় তেল উৎপাদন বা শোধনাগারের অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি।
ড্রোন ভূপাতিত: সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় মদিনা ও পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমায় লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসা মোট পাঁচটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
হুথিদের অস্বীকার: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি'র দাবি, তাদের দল বুধবার মদিনার দিকে কোনো ড্রোন পাঠায়নি এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপও নেয়নি। সৌদি জোটের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি।