আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটকের পর শনিবার দিনগত গভীর রাতে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে মুক্তির পর পুরো ঘটনাটিকে আইনি আটক বা গ্রেপ্তারের বদলে ‘অফিসিয়াল অপহরণ’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এ অবস্থিত নিজের বাসভবন থেকে ধ্রুব রাঠিকে আটক করে পুলিশ। ছাড়া পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ধ্রুব রাঠি লেখেন, “আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, মূলতঃ আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। আপনাদের সমর্থনের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। পুরো ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম।”
একই সঙ্গে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট প্রদর্শন করে তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের অপপ্রচারের কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, “আমি ভারতীয় নাগরিক ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। মোদি মিডিয়া গুজব ছড়াচ্ছে এবং আমাকে আটকের স্বপক্ষে অযৌক্তিক যুক্তিতে বলছে— ‘বিদেশি নাগরিক কেন আন্দোলনে গেছে?’ এসব পুরোপুরি মিথ্যা। আমি একজন গর্বিত ভারতীয় নাগরিক, দেশের একজন সাধারণ নাগরিকের যতটুকু অধিকার রয়েছে, আমারও ঠিক ততটুকুই অধিকার রয়েছে।”
ভিডিওতে ঘটনাটিকে ‘কিডন্যাপ’ আখ্যা দিয়ে ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করেন, পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় তাকে কোনো ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি এবং নিজের আইনজীবীর সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে নানা অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির জন্তর মন্তরে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নিতে সাধারণ মানুষকে সেখানে পৌঁছাতে বাঁধা দিতে রাজধানী জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে গুরুগ্রামের বাসভবন থেকে ধ্রুব রাঠিকে আটক করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দিল্লি পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।