গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সীমান্তে সুতিয়া নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ের দৃষ্টিনন্দন সেতুটি এখন স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চার বছর ধরে মেয়াদ পেরিয়ে মূল সেতুর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও সংযোগ সড়ক (এপ্রোচ রোড) তৈরি না করায় সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মই এবং মাটির খাড়া ঢাল বেয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছেন।
সেতুর সময়সীমা ও ব্যয়: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুতিয়া নদীর ওপর এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়, যা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার: সেতুর উচ্চতা আনুমানিক ১৫ ফুট হওয়ায় সংযোগ সড়কের অভাবে সেখানে ফেলানো মাটির ঢাল সামান্য বৃষ্টিতেই মারাত্মক পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে অনেক সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থী পাশের ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু ও রেললাইন ধরে যাতায়াত করছেন, এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আঞ্চলিক গুরুত্ব: গফরগাঁওয়ের অন্তত ৮টি ইউনিয়নের মানুষসহ দুই জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জমি সংক্রান্ত দাবি: স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, সংযোগ সড়কের প্রস্তাবিত সীমানায় ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো জমি নেই; বরং জমিটি বাংলাদেশ রেলওয়ের, যেখানে কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ফলে উচ্ছেদ করে দ্রুত সড়ক নির্মাণে কোনো বড় আইনি বাধা থাকা উচিত নয়।
এলজিইডির প্রকৌশলীর ব্যাখা: গাজীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, এটি 'অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার' প্রকল্পের আওতাভুক্ত হওয়ায় শুরুতে জমি অধিগ্রহণের অর্থ সংস্থান রাখা সম্ভব হয়নি। তবে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সেতুটি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।