×
সদ্য প্রাপ্ত:
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু আজ মাদারীপুরে ৮০০ কোটি টাকার সেতু, নির্মাণস্থান পরিদর্শনে এমপি জাহান্দার আলী একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ফুলগাজীতে প্রবাসীর জমিতে আগুন, শতাধিক ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক গোল, দুই অ্যাসিস্টে মেসির রাজকীয় বিদায় ভিজিএফ কার্ড এর মাধ্যমে ২০ কেজি চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু: মাহদী আমিন দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৯ কেজি স্বর্ণ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-০৮
  • ২৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে উভয় দেশের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গঙ্গা চুক্তির পটভূমি ও প্রধান অগ্রাধিকার 'গ্যারান্টি ক্লজ'

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত প্রথম ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। ৩০ বছর মেয়াদি সেই চুক্তির মেয়াদ এ বছর শেষ হচ্ছে।

নতুন চুক্তির রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির আদলে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ বা নিশ্চয়তা ধারা ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, সেখানে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখেই চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করা হয়েছিল।”

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান, আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই আমাদের নতুন চুক্তি করতে হবে। দেশের মানুষের ও জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষা করাই সরকারের মূল নীতি। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে গ্যারান্টি ক্লজসহ নতুন চুক্তি করেই বাংলাদেশ সামনে এগোতে চায়। ১২ ডিসেম্বরের আগে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জেআরসির কারিগরি টিম ইতিমধ্যে কাজ করছে, তাদের কাজ শেষ হলেই মন্ত্রী পর্যায়ে বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ফিজিবিলিটি স্টাডি

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী এটিকে দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী এবং উজানের পানি যেভাবে ভাটি এলাকায় আসে, তাতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ সদস্যদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ হাতে নেওয়া হবে। স্টাডির ভিত্তিতেই মূল কাজ শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৭ সালের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। অতীতে পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট ছাড়া কাজ না করায় মেগা প্রজেক্টগুলো থমকে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পদ্মা ব্যারেজ ও সরকারের মেগা প্রজেক্ট পরিকল্পনা

পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে বাংলাদেশের জন্য ‘মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পের সুফল পাবে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় সাত কোটি মানুষ।

পদ্মা ব্যারেজের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে স্টাডি চললেও তা অতীতে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে। পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করতে ইতোমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে এবং আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো সময়ে দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বাস করেন, তাঁরা আমাদের দেশেরই মানুষ। আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সেমিনারে নিজের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও বহু ত্যাগের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে বেশ কিছু দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ গড়ার এই যাত্রায় সরকার সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat