দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর পুষ্টি ও তরল চাহিদা মেটাতে ফলমূলের কদর বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ফলের বাজারে এক ধরনের নৈরাজ্য ও লাগামহীন দাম বৃদ্ধি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ফল এখন প্রায় বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।
মাল্টা ও কমলার চড়া দাম: রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ফল হিসেবে বিবেচিত আমদানি করা প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ভালো মানের কমলা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং কিছু স্থানে তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও যে মাল্টার কেজি ছিল প্রায় ৩০০ টাকা, তা এখন দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ডাবের আকাশচুম্বী দাম: ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ডাবের পানি অত্যন্ত কার্যকর হওয়ায় এর চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকারভেদে প্রতিটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত। অথচ পাইকারি বাজার ও স্থানীয় উৎস থেকে সামান্য দামে সংগ্রহ করা ডাব হাতবদলের মাধ্যমে খুচরা বাজারে এসে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।
অন্যান্য ফল ও দেশি বিকল্প: বেদানা, আঙুর ও আপেলের মতো ফলগুলোর দামও প্রতি কেজি প্রায় ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে। বাধ্য হয়ে অনেক সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামি দেশি ফল যেমন—পাকা পেঁপে, পেয়ারা, জাম্বুরা বা সবুজ মাল্টার দিকে ঝুঁকলেও সেগুলোর দামও আগের তুলনায় বেশ চড়া।
ডেঙ্গুর প্রকোপ ও ফলের বাজারে চরম নৈরাজ্য: নাগালের বাইরে মাল্টা-ডাব
চাহিদার সুযোগ নেওয়া: চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু রোগীদের শরীর থেকে তরল ও লবণের ঘাটতি পূরণে জুস, ডাবের পানি ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ব্যবসায়ীরা এই চিকিৎসাভিত্তিক চাহিদাকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মুনাফা লোটার হাতিয়ার বানিয়েছেন।
আমদানি জটিলতা ও শুল্ক: ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং উচ্চ শুল্ক-করের কারণেও ফলের আমদানি ব্যয় কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন ও নৈরাজ্যের পেছনে সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।
রোগীর স্বজনদের চরম বিপাকে পড়া: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর বাড়তি চিকিৎসার ব্যয়ের ধাক্কা সামলানোর পর, চড়া দামে ফল কিনতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
এমতাবস্থায়, অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রুখতে এবং ফলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জোরদার বাজার মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক অভিযানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো।