মধ্যপ্রাচ্যের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত উপদ্বীপ গাজায় চলমান নির্মম সামরিক আগ্রাসন এবং লাগাতার বোমা হামলায় এমনিতেই চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তার ওপর সম্প্রতি সেখানে একটি বড় বহুতল আবাসিক ভবন ধসের অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে কমপক্ষে ২০ জনে গিয়ে ঠেকেছে এবং ভবনটির বিশাল কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ বা আটকে থাকায় স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা চরম অনিশ্চয়তা, তীব্র আতঙ্ক ও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব সত্ত্বেও প্রাণপণ উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
যা মূলত গাজার অবরুদ্ধ ও অবর্ণনীয় দুর্দশাগ্রস্ত এলাকায় একদিকে জ্বালানি ও ভারী উদ্ধার সরঞ্জামের মারাত্মক সংকট এবং অন্যদিকে অবিরাম বিমান হামলার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়া আবাসিক অবকাঠামো ও ভবনগুলোর আকস্মিক ধসে পড়ার ঝুঁকিকে অত্যন্ত ভয়ংকর ও করুণভাবে বিশ্ববাসীর সামনে ফুটিয়ে তুলেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সেখানে অবিলম্বে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর দাবি আরও শতগুণ জোরালো হয়ে উঠেছে।
এবং এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অসহায় মানুষগুলোকে জীবিত উদ্ধারের জন্য হাতে থাকা সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে স্থানীয় চিকিৎসা কর্মী ও মানবিক সংগঠনগুলো তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করার পাশাপাশি এই অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং অবিলম্বে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ও জোরালো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে যাতে হাজারো নিরীহ মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়।