সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার, ভ্যালেরিয়াম ও জমি ক্রয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাতের মতো প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বিপুল আর্থিক অনিয়মের নতুন অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড ও পর্তুগালসহ অন্তত ৫টি দেশে বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও স্বজনদের সহায়তায় মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।
দুবাই (৪,৫০০ কোটি টাকা): দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট ও ‘গ্রিন গ্রুপ’-এ বিপুল পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ এবং বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে।
সিঙ্গাপুর (৩,০০০ কোটি টাকা): সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যিক খাত ও বিভিন্ন অফশোর অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া (২,০০০ কোটি টাকা): সম্পদ ক্রয় ও পারিবারিক ট্রাস্টে অর্থ প্রেরণের অভিযোগ।
সুইজারল্যান্ড (১,৫০০ কোটি টাকা): সুইস ব্যাংকের গোপনীয় অ্যাকাউন্টে জমা এবং আন্তর্জাতিক তহবিলে স্থানাস্তর।
পর্তুগাল: পাচারকৃত অর্থ দিয়ে পর্তুগালে একাধিক বাণিজ্যিক জমি ও কৃষি সম্পত্তি ক্রয়ের নির্দিষ্ট তথ্য অনুসন্ধানে যুক্ত করা হয়েছে।
দুদকের প্রাপ্ত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসিফ মাহমুদের নিকটাত্মীয়—দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের প্রত্যক্ষ মাধ্যমে এবং তাদের নামে তৈরি ভুয়া বিদেশি বাণিজ্যিক সত্তার মাধ্যমে এই পাচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিদেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্পর্শকাতর দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যের তথ্য দুদক খতিয়ে দেখছে:
| খাত / পদায়ন | লেনদেনের অভিযোগ | বিবরণ |
| ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন | ~৬০ কোটি টাকা | প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম |
| সারাদেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়ন | ৭২ থেকে ৩৬০ কোটি টাকা | ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন |
| ওয়াসা ও গাজীপুর সিইও নিয়োগ | প্রায় ১২৭ কোটি টাকা | ওয়াসা এমডি (১০ কো.), এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী (৫২ কো.) ও গাজীপুর সিইও (৬৫ কো.) |
| শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প | ১,২০০ কোটি টাকা | প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ |
| মুরাদনগর অবকাঠামো প্রকল্প | ৪৫৩ কোটি টাকা | নিজ উপজেলায় প্রাক্কলন ও বিশেষ অর্থ বরাদ্দ অনিয়ম |
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেবল আসিফ মাহমুদ এককভাবে নন, বরং তার বাবা বিল্লাল হোসেন এবং সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন যৌথভাবে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করতেন। তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঘুষের কোটি কোটি টাকা সংগ্রহের তথ্য পাওয়া গেছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পদোন্নতি বাণিজ্যের (প্রায় ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা) যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল, নতুন অভিযোগগুলো তার সঙ্গে একীভূত করে চার সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান দল কাজ করছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।