×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-০৯
  • ১৫৩ বার পঠিত

মিজানুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

লন্ডন হিথ্রো হোক বা দুবাই লেবার ক্যাম্প, প্রতিটি প্রবাসী বাংলাদেশির হৃদয় এখনও ঢাকার অলিগলির সঙ্গে বাঁধা। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ মাস ধরে আমরা অপেক্ষা করছি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। এবার প্রবাসী হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা একেবারেই স্পষ্ট: ভোটের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত হোক।
ভোটের অধিকার: প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতার পরীক্ষা
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা ডাকযোগে ভোট দিতে পারছেন। নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের ১২১টি দেশ থেকে প্রায় ৭ লাখ ৭২ হাজার প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। এটি দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফল।
কিন্তু সমস্যাও আছে। বাহরাইন ও ওমানের কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত ঠিকানায় একাধিক ব্যালট পৌঁছে যাচ্ছে—কিছু ক্ষেত্রে ২০০–৩০০ ব্যালট। এটি ভোটের গোপনীয়তা ও স্বতন্ত্র বিতরণের নীতি লঙ্ঘন করে। তাই প্রযুক্তি কেবল ভোট নিবন্ধনের জন্য নয়; প্রতিটি ব্যালটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার দায়ভার রাষ্ট্রকে নিতে হবে। আমরা চাই এমন ভোট, যেখানে প্রযুক্তি নয়, নাগরিকের আস্থা প্রাধান্য পাবে।
রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ: নিরাপত্তার দাবি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রবাসীদের ‘অর্থনৈতিক অবদানে’ যথাযথ স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করেছেন।
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) ঘোষণা করেছে, প্রবাসীরা যদি দেশে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) আনেন, তারা ১.২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পাবেন। তবে প্রবাসীদের প্রধান দাবি হলো নিরাপত্তা। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা দাবি করছেন—একটি স্বতন্ত্র ‘এনআরবি প্রপার্টি প্রোটেকশন সেল’ গঠন করা হোক, যাতে ভূমি বা সম্পত্তি দখলের ঘটনা রোধ করা যায়।
পাসপোর্ট ও দূতাবাসের দায়িত্ব
প্রবাসীদের কাছে পাসপোর্ট তাদের জাতীয় মর্যাদার প্রতীক। ২০২৫ সালের হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। বিদেশে কর্মস্থলে বা বিমানবন্দরে প্রবাসীরা প্রায়ই অসম্মানজনক চোখের মুখোমুখি হন।
পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিলের ফলে ৭০ হাজার পাসপোর্ট দ্রুত বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে দূতাবাসের সেবা এখনও সন্তোষজনক নয়। প্রবাসীরা চাই, বিদেশের প্রতিটি মিশনে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হোক। দূতাবাস যেন প্রবাসীদের সমস্যায় সত্যিকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
বিমানবন্দর: পরিষেবা ও মর্যাদা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ, ২৪ ঘণ্টা ম্যাজিস্ট্রেট এবং হটলাইন সেবা প্রশংসনীয়। তবে ৮৫% যাত্রীর লাগেজ নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর দাবি এখনও পূর্ণ হয়নি। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণ কার্যক্রম বাকি। প্রবাসীরা চাই, বিমানবন্দর হোক সেই স্থান, যেখানে তারা শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা পাবেন, না যে ‘শ্রমিক’ হিসেবে অবজ্ঞা ভোগ করবেন।
জুলাই জাতীয় সনদ ও রাজনৈতিক কাঠামো
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমরা কেবল এমপি নির্বাচনে অংশ নেব না, বরং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের রূপরেখা নির্ধারণে নজর রাখব। প্রবাসীরা প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সহ বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগী। আমরা চাই ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নয়, সুশাসন হোক রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি।
উপসংহার
প্রবাসী জীবন মানে কেবল পাউন্ড, ডলার বা রিয়াল পাঠানো নয়। এটি দেশের সঙ্গে এক অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আমাদের জন্য স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার সুযোগ। আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে প্রবাসীরা কেবল অর্থ প্রেরণকারী নয়, দেশের প্রকৃত অংশীদার হিসেবে গণ্য হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat