মোঃ অলি উদ্দিন মিলন বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন 'যমুনা' ও শাহবাগ এলাকা আজ এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হাদীর হত্যার বিচার দাবিতে আসা ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী জাবের পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের নজিরবিহীন লাঠিচার্জ ও অমানবিক আচরণের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নির্বাচনী আবহের মধ্যে এই ঘটনা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং আগামী নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে জনমনে তীব্র শঙ্কা তৈরি করেছে।
ঘটনার বিবরণ: বিচার চাইতে এসে গুলিবিদ্ধ জাবের
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে একদল তরুণ সুগন্ধা ও যমুনা এলাকায় অবস্থান নিতে যান। তাদের দাবি ছিল
জুলাই বিপ্লবের শহীদ হাদীর খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্নভাবে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং কোনো উস্কানি ছাড়াই গুলি চালায়। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সক্রিয় কর্মী জাবের গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর চড়াও পুলিশ: পেশাগত স্বাধীনতায় আঘাত
ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। যমুনার সামনে উপস্থিত অন্তত ১০-১৫ জন সংবাদকর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ করা হয়।
অমানবিক আচরণ: সাংবাদিকরা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখালেও পুলিশ সদস্যরা তা অগ্রাহ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
সরঞ্জাম ভাঙচুর: বেশ কয়েকজন ভিডিও জার্নালিস্টের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
আহত সংবাদকর্মী: লাঠিচার্জে বেসরকারি টেলিভিশন ও অনলাইন পোর্টালের অন্তত ৫ জন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
রণক্ষেত্র শাহবাগ: থমথমে পরিস্থিতি
যমুনার ঘটনার রেশ ধরে শাহবাগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। সেখানেও পুলিশকে মারমুখী অবস্থানে দেখা যায়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা স্থবির হয়ে পড়ে। সাধারণ পথচারীরাও পুলিশের এই মারমুখী আচরণ থেকে রেহাই পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জনমনে প্রশ্ন: সুস্থ নির্বাচন কি কেবল স্বপ্ন?
নির্বাচনী ডামাডোলের এই সময়ে গণমাধ্যম ও আন্দোলনকারীদের ওপর এমন হামলা জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন:
নির্বাচনের পরিবেশ: যেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়, সেখানে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কি আদৌ সম্ভব?
প্রশাসনের ভূমিকা: ড. ইউনূসের বাসভবনের সামনে এমন মারমুখী আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে?
গণমাধ্যমের নিরাপত্তা: সংবাদ সংগ্রহের সময় যদি পুলিশই বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে সত্য সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছাবে কীভাবে?
একনজরে আজকের পরিস্থিতি
বিষয় বিবরণ
মূল ভিকটিম জাবের (গুলিবিদ্ধ), আন্দোলনকারী ও সংবাদকর্মীগণ
হামলার স্থান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন (যমুনা), সুগন্ধা ও শাহবাগ
পুলিশের ভূমিকা লাঠিচার্জ, গুলি এবং মারমুখী ও অকথ্য আচরণ
বর্তমান অবস্থা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি, জনমনে তীব্র ক্ষোভ
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সুস্থ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।" নাগরিক সমাজ।
এখনো পর্যন্ত পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শাহবাগ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..